মানসী - একটি বিস্মৃত কাহিনী!

in Incredible India15 hours ago (edited)
1000083134.jpg1000083133.jpg

আজকের গল্পটি একটি বাস্তব ঘটনা এবং চরিত্রের নিরিখে তুলে ধরছি, তবে সুরক্ষার কারণে আসল চরিত্রের নামসহ প্রকৃত ঘটনায়
আমার মত করে কিছু পরিবর্তন করেছি।

"মানসী," একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের কিন্তু উচ্চ স্বপ্ন পূরণ করবার লড়াইতে সামিল মেয়ে! লেখাপড়ায় বরাবর ভালো, খেলাধুলায় বেশ নামডাক, সাথে কলেজের বিভিন্ন নাটকে তার ডাক পড়ে হামেশাই!

এরকম একটি নাটকের মঞ্চে তার অভিনয় দেখে, তার ডাক পড়ল সরকারি দফতরে!

কারণ? তার বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা সহ, তার অন্যান্য দক্ষতার বিষয়, এমনকি পরিবারের খোঁজ নিয়েই তারা মানসীকে তলব করেছেন!

কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেনো? এরকম দক্ষতার অধিকারী অনেকেই আছেন, খুঁজলে পাওয়া যেতেই পারে, তবে সকলের মধ্যে মানসীর মত উচ্চ স্বপ্ন পূরণের ক্ষিদে থাকে না!

কি এমন কাজ? যে তার এত খোজ খবর নিয়েছিল সরকারি উচ্চ পদে থাকা কর্মচারীরা!

মানসী প্রথমটায় ভেবেছিল, তার খেলার নাম ডাকের কারণে হয়তো, সরকারি দফতরে তার নাম পৌঁছেছে!

মনে মনে ভাবলো, এবার জীবন হয়তো একটু বদলাবে, বাবার বয়স হয়েছে, ভাইকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে হবে, সাথে বাড়িটি বেশ পুরোনো হয়েছে, মা যতদিন ছিল, ততদিন বিষয়টি ছিল এক রকম, কিন্তু মা চলে যাবার পর বাবা যেনো কেমন উদাসিন হয়ে গেছে সব বিষয়, যদি সংসারে খানিক আর্থিক অবস্থা উন্নত হয়, বাবাকে আর কাজ করতে দেবো না!

এমন সাত সতেরো ভাবতে ভাবতে নিদির্ষ্ট অফিসের ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছিল মানসী!

তারপর যেটা জানতে পেরেছিল, সেটা মনসীকে খানিক স্তম্ভিত করেছিল,
কারণ, তার দিকে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল একটা এমন চ্যালেঞ্জ যেটা তার পুরো জীবনের বুনে রাখা স্বপ্ন এবং সজ্জার চেহারাটাই বদলে দিয়েছিল!

কাজটা কি ছিল? কাজটা ছিল তাকে একটি অন্য দেশে গিয়ে, দেশের জন্য গুপ্তচর বৃত্তির কাজ করতে হবে।

তবে, যদি কখনও ধরা পড়ে যায়, দেশ থেকে কোনো সহায়তা পাবে না, এমনকি তাকে দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকার প্রদান করবেন না সরকার!

1000083132.jpg

এক্ মুহুর্তে তার চোখের সামনে নিজের পরিবার এবং তার বর্তমান আর্থিক অবস্থা ভেসে উঠলো, এবং সে সম্মতি জানালো, এই জন্য তার অবর্তমানে তার পরিবারের সমস্ত ভার সরকার বহন করবেন;
এমনকি তার যদি কিছু হয়, তাহলে তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে, এবং অর্থের অঙ্কটি বেশ মোটা!

তাই, মানসী প্রথমটায় একটু চিন্তায় পড়ে গেলেও পরে, রাজি হয়ে গিয়েছিল। এই ভেবে, সে যদি জীবিত ফিরতে নাও পারে, তার পরিবার সচ্ছল জীবন যাপন করতে পারবে।

শুরু হলো, মানসীর নতুন জীবন, সে বাড়ি ছাড়ার পূর্বে বাবা এবং ভাইকে ডেকে জানালো, সে সরকারি চাকরি পেয়েছে এবং সেই সূত্রে দেশের বাইরে যাচ্ছে, তাদের চিন্তার কারণ নেই, কারণ মাসে মাসে তাদের কাছে টাকা পৌঁছে যাবে।

তবে, কাজের বিষয় নিয়ে এর অধিক সে আর কিছুই বাড়িতে জানায় নি,
কারণ এটাও তার কাজের অন্যতম একটি শর্ত ছিল!

এরপর, নকল আইডেন্টিটি তৈরি হলো মানসীর, বদলে গেলো নাম, তার ধর্ম আর সাথে তৈরি করা হলো, যে দেশে যাবে সেই দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ পত্র!

নির্ধারিত দিনে গন্তব্য স্থলে গিয়ে পৌঁছলো নতুন পরিচয়ে পরিচিত মানসী!
প্রথমেই, তার কাজ হলো, একটি কর্মসংস্থান এবং বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, কিন্তু এসবের আগেও যেটি প্রয়োজন ছিল, সেটা হলো কিছু মানুষের সাথে নিজের পরিচিতি তৈরি করা।

অর্থাৎ একটি নতুন সজ্জায় নিজেকে শুধু সাজানো নয়, সেই নতুন পরিচিতিকে বিশ্বাসের জায়গা প্রদান করা।

প্রথম সে যে কাজটি করলো, স্থানীয় ধর্মস্থানে গিয়ে সেখানে সেবার কাজে নিজেকে নিয়োগ করলো, এবং কয়েকদিন নিজের থাকার ব্যবস্থা সেখানেই করলো, এরপর সেখানে এক্ ব্যক্তি তার পরিচয় জানতে চাইলে, মানসী জানালো, তার পরিবারের সদস্যরা কেউ আর বেঁচে নেই,
বাবার বাজারে ধার ছিল, তাই তার বাড়িটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে, এখন একটি চাকরির সন্ধান করছে, সাথে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই!

সঙ্গে সমস্ত অফিসিয়াল কাগজ ছিলই, কাজেই অবিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই!

এক্ মাস তার মনোযোগ সহকারে ধর্মস্থানের সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে, সেই ধর্ম স্থানে আসা এক্ সরকারি উচ্চ পদে আসীন ব্যক্তিকে মানসীর কথা জানালো, সেই ধর্ম স্থানের মানুষটি।

সাথে জানালো, মেয়েটি শিক্ষিত এবং শিক্ষার সার্টিফিকেট সঙ্গে নিয়ে একটি কাজ এবং মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছে!

1000083128.jpg

যেহেতু, ধর্ম স্থানের মানুষটিকে সকলেই খুব সম্মান করত, সেই সুবাদে পরদিন মানসীকে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে অফিসার ডেকে নিলো তার অফিসে, এবং সৌভাগ্যক্রমে মানসী ক্লারিকাল পদে একটি চাকরি সহ, পেয়ে গেলো সরকারি কোয়াটার থাকবার জন্য।

তবে, চাকরি পাবার পরেও, সে কাজের দায়িত্ব পালনের পাশাপশি সেই ধর্মস্থানে নিয়মিত যেতো, ধর্ম গুরুর সাথে দেখা করতে।

এমনকি, প্রথম মাসের বেতন পেয়ে, সেই ধর্ম স্থান সহ সেই ধর্ম গুরুর সেবার জন্য কিছু উপহার নিয়ে গিয়েছিল।

এইভাবে, সময়ের সাথে নিজের কাজের দক্ষতা দেখিয়ে সে শুধু অফিসে প্রমশন পেলো, তাই নয়;
তার উদার মানসিকতার কারণে, সে সর্বত্র পরিচিতি লাভ করলো, অর্থাৎ বিশ্বাস অর্জন করতে সফল হয়ে গেলো, অল্প সময়ের মধ্যেই।

একদিন, যে অফিসার তাকে ইন্টারভিউ এর জন্য ডেকেছিল, সে মানসী কে তার পুত্রবধূ করবার প্রস্তাব দিলো, মানসী খানিক ইতস্তত করে বিয়েতে সম্মতি দিলো।

কারণ, সে বুঝেছিল অধিক খবর সংগ্রহের জন্য কেবলমাত্র অফিসেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, এতদিন পর্যন্ত সে এক বারের জন্য নিজের দেশের কারোর সাথে কোনো যোগাযোগ করে নি, কিন্তু যেদিন তার বিয়ে সেদিন সে বাড়ির ঠিকানায় একটি চিঠি পাঠিয়েছিল, যেটি তার দেশে পৌঁছেছিল দুটি অন্য দেশ ভায়া হয়ে, যাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ না থাকে।

এরপর, সে দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠাতে শুরু করলো, এবং এইভাবে কেটে গেলো বছর পনেরো, সে জানতে পারলো, ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে, এবং এইবার তাকে বাড়িতে আসতেই হবে।

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, নিজের স্বামীকে জানালো সে কিছুদিনের জন্য তার এক অসুস্থ আত্মীয়কে যে অন্য দেশে থাকে একবার দেখা করতে যেতে চায়,
এরমধ্যে মানসী এক্ পুত্র সন্তানের মা হয়ে গেছে, ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গেলো না মানসী, কারণ হিসেবে তার পরীক্ষার অজুহাত বেছে নিয়েছিল।
অন্যদিকে সে দেশের সরকারের অনুমতি পেয়ে, পৌঁছলো বাড়িতে।

1000083131.jpg

এত বছর পর, নিজের দিদিকে দেখে সকলেই খুশি।
মানসী জানতে পারলো, তার ভাই একটি বেসরকারি অফিসে কাজ পেয়েছে, বাড়ির চেহারা বদলে গেছে, কারণ সরকার তাকে দেওয়া কথা অনুযায়ী মোটাটাকা তার বাবার অ্যাকাউন্টে পাঠাচ্ছে।

মনে মনে মানসী ভাবলো, নিজের জীবনের সজ্জা নিজের মতো করে না সাজাতে পারলেও অন্ততপক্ষে বাড়ির সজ্জা বদলেছে।

দেখতে দেখতে বিয়ের দিন কেটে গেলো, এবার ফেরার পালা, তবে মানসী সেদিন জানত না, এটাই তার ভাই এবং বাবার সাথে শেষ দেখা!

জানতে চান কি হয়েছিল শেষ পর্যন্ত মানসীর? সত্যি কি মধুরেন সমাপয়েত হয়েছিল, তার? সে কি দেশে ফিরতে পেরেছিল? তার স্বপ্ন তাকে কোন পরিণতিতে ঠেলে দিয়েছিল?
নিজেদের অভিমত মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না!

1000010907.gif

1000010906.gif

Sort:  

Congratulations @sduttaskitchen! Your post has been upvoted by @supportive. In addition, accounts that delegate to us may receive a daily vote on one post worth approximately 5x their delegated SP, along with nearly 10% APR paid daily.


image.png
Curated by: @ahsansharif
Posted using SteemX

Loading...