দক্ষতা নাকি ডিগ্রি!
![]() |
|---|
লেখার শুরুতেই জানিয়ে রাখা ভালো, আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হাজির হই নি, একেবারে শেষ পাতে নিজের নির্বাচিত প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুর পিছনে যে ব্যাক্তিগত গল্প লুকিয়ে রয়েছে, সেটি তুলে ধরতে হাজির হয়েছি।
বিগত চার বছরের অধিক কমিউনিটিতে এবং ইতিপূর্বে একজন সাধারণ ইউজার হিসেবে, বলা যায় প্রতিযোগিতার আয়োজন করছি পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে!
অনেকেই জানেন না, কেবলমাত্র সম্পা ছাড়া এবং দু একজন পুরোনো ইউজার ছাড়া, যখন এই কমিউনিটি সৃষ্টি হয়নি, তার আগে অন্য একটি কমিউনিটিতে আমি মডারেটর হিসেবে নিয়োজিত ছিলাম, এবং সেখানে প্রথম আমি প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিলাম!
যদিও বর্তমানে সেই কমিউনিটি আর নেই, তবে সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু নির্বাচন করে আসছি যেনো সৃষ্টিকর্তার ইশারায়!
শব্দে ব্যাখ্যা করা খুব মুশকিল কিন্তু প্রায়শঃই প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের জীবনের কোনো না কোনো গল্প জড়িত থাকে!
যেমন এই মুহূর্তে কমিউনিটিতে চলমান প্রতিযোগিতার কথা যদি ধরা যায়, তাহলে ফিরে যেতে হবে, সেই সময় যখন আমি স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে যাওয়া শুরু করেছি!
ইতিপূর্বে আমার কলেজে নির্বাচিত বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছি নিজের লেখায়, তারমধ্যে দর্শন ছিল একটি বিষয়!
যেহেতু বিষয়টি নতুন ছিল, তাই স্বভাবতই আমি যার কাছে ইংরেজি পড়তাম সেই শান্তু পিসিমা বলেছিলেন, তোকে একজন শিক্ষিকার খোজ দিচ্ছি!
সে দর্শনে অনার্স নিয়ে পড়েছে, তার কাছে গিয়ে আমার কথা বলবি, তাহলে তোকে ব্যাচে নিয়ে নেবে!
যেমন আজ্ঞা, তেমনি কাজ!
গেলাম তার কাছে, ভর্তি হলাম, এবং কিছুদিন প্রাইভেট ক্লাস করলাম, কিন্তু আমার বলতে একেবারেই দ্বিধা নেই, সব বোঝানো আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল!
সাহস করে পিসিমার কাছে কিছু জানাতেও পারছিলাম না!
শেষমেশ আমার রক্ষা কবচ হিসেবে বেছে নিয়েছিলাম আমার জ্যাঠতুতো দাদার বউ কে!
দাদা মিলিটারিতে চাকরি সূত্রে বাইরে থাকতো, সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে, আমি তার খানিক সঙ্গী, এছাড়াও আমার ওই বৌদি দর্শন নিয়ে পড়েছে বটে তবে অনার্স নয়, পাস কোর্সে!
কিছুদিন তার কাছ থেকে বুঝালাম, বেশ ভালো পড়াচ্ছিল, আমার দর্শন সম্পর্কে আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকলো!
এরপর, বৌদি বললো, সে শান্তু পিসিমাকে( আমার ইংরিজি শিক্ষিকা) জানিয়ে দেবে যে আমি ওই অনার্স শিক্ষিকার পড়ানো কিছুই বুঝতে পারছি না!
আমি খানিক হাফ ছেড়ে বাঁচলাম! এরপর বৌদি আমাকে ঠিক পিসিমার বাড়ির পাশে বৌদির একজন বান্ধবীর খোজ দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করতে বললো!
সংসারের কাজ সেরে, এদিক ওদিক বৌদির ঘুরতে যাওয়া সবমিলিয়ে আর বৌদির কাছে পড়া হলো না!
গেলাম বৌদির বান্ধবীর কাছে, যার কথা বলছি, তাদের আর্থিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না, ঠিক সেই কারণে যে বাড়িতে থাকতো, তার পরিস্থিতি ছিল বেহাল!
তাই সে নিজেই জানালো, আমাকে তিনি বাড়িতে এসে সে পড়াবে!
আমিও খুশি! কারণ কলেজ করে পিসিমার কাছে পড়ে, তারপর আমাকে নিজেকে পড়তে হবে, সাথে আমার আরেকটি শিক্ষিকা ছিল(শৈশব থেকেই সে আমাদের দুই বোনকে পড়িয়েছে) যার কাছে আমি রাষ্ট্র বিজ্ঞান এবং ইতিহাস পড়তাম!
এরপর, আবার কোথাও গিয়ে পড়ার চাইতে বাড়িতে পড়লে, যাতায়াতের সময় বাঁচবে, এই ভেবে নিশ্চিন্ত হলাম!
সেই শিক্ষিকার কথাও আমার আমৃত্যু মনে থাকবে, কারণ সেও ছিল পাস কোর্সের ছাত্রী কিন্তু কি অসাধারণ দর্শন বিষয়টি বোঝাতো, সেটা বলে বোঝানো যাবে না!
আর এখানেই প্রমাণিত হয়, ডিগ্রী থাকলেই দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়, সেটা যেকোনো বিষয় হোক না কেনো!
দেখুন লিখতে গিয়ে কত কথাই মনে পড়ে যায়, এই প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করবার পর, টাকা তোলা শিখতে গিয়ে কি না অপমান সহ্য করতে হয়েছে, সেটাও মনে পড়ে গেলো, তার সাক্ষীও সম্পা!

![]() | ![]() |
|---|
এখন তাদের প্রথম সন্তানের পায় দাঁড়ানো থেকে মুখের বুলি ফোটানোর কথা যদি মাথায় থাকে, তাহলে হয়তো বুঝবে, আমার মাথায় কি আছে, আর সত্যি কোনো দক্ষতা আমার আছে কিনা!
এরপর, দেখুন আর উদাহরণ রয়েছে, যেমন ধরুন,
একজন ডাক্তারি পড়েছে মানেই, সে ভালো ডাক্তার ভাবার কোনো কারণ নেই!
কেনো এমনটা বলছি জানেন? এই আধুনিকীকরণের যুগে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে কিন্তু পাশাপশি দক্ষতা কমেছে অনেকখানি!
যন্ত্রের উপর, পরীক্ষার উপর এখন চিকিৎসা শাস্ত্র অধিক নির্ভরশীল!
কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে হলে সেই বিষয়টিকে মন থেকে ভালোবাসতে হবে সর্বাগ্রে, এটাই সেই ডিগ্রিকে দক্ষতার মুকুট পড়িয়ে সঠিক মর্যাদা দিতে সক্ষম!
আমার মনে আছে, ব্যাক্তিগত কারণে শিলিগুড়িতে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল, যন্ত্র দেখাচ্ছিল আমার কিছুই হয়নি, কিন্তু ডাক্তার বলেছিল তার সন্দেহ আছে, কারণ তার হাত অন্য কথা বলছে, এবং অবশেষে দেখা গেলো সেই ডাক্তার সঠিক!
সেদিন তিনি বলেছিলেন, তার সিনিয়র তাকে শিখিয়েছেন, ডাক্তারি করতে বসলে যন্ত্রের চাইতেও অধিক হাতকে বিশ্বাস করতে!

সবটা মিলিয়ে আমি বলতে পারি মুখস্ত বিদ্যা দিয়ে একজন ডিগ্রি অর্জন করতেই পারে, তবে সেই বিষয়ের প্রতি ভালবাসা না থাকলে যেমন দক্ষতা অর্জন সম্ভব নয়;
তেমনি, সেই দক্ষতা অন্যের মধ্যে বিলিয়ে অন্যদের দক্ষ তৈরি করাও সম্ভব নয়!
আমার তো এটাই মনে হয়, আর আপনাদের অভিমত নিশ্চই পড়বো আগামীকাল!
কিছুজনের লেখা পড়েছি, তবে বাকিটা শেষপাতে হবে!
পরিশেষে একটাই কথা বলার আর সেটা হলো, নিজের শেখা যদি অন্যের কাজে না আসে তাহলে সেই ডিগ্রির কোনো মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না!
কারণ, সেটা শুধু সার্টিফিকেট মাত্র! দক্ষতা তার আসে পাশে বসবাস করে না! স্থির জলে শৈবাল জমে যায় যে! সেটা আর তৃষ্ণা মেটাবার কাজে আসে না!





