কাঁচা আম খাওয়া....
প্রথমেই সকলকে নমস্কার। এই গরমে সবাই সুস্থ এবং ভালো আছেন আশা করি। আমিও বেশ ভালো আছি। আমাদের এখানে তেমন গরম নেই এখন। আজ আমি আবার একটি নতুন গল্প নিয়ে চলে এসেছি। এই গরমকালে প্রথম কাঁচা আম খাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব আপনাদের সাথে।
তিন চার দিন ধরে বেশ ভালোই বৃষ্টি হচ্ছিল একদম ঠান্ডা আবহাওয়া, সূর্যিমামার দর্শন পাওয়া যায়নি। তবে আজ সূর্যিমামা দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকদিন পর রোদের ছোঁয়া পেয়ে দিনটা ভালই কাটছিল হঠাৎ কাঁচা আম খাওয়ার ইচ্ছে জাগলো মনে। ওদিকে গাছের আম গুলো একটু বড় হয়েছে। ঠিক করলাম কাঁচা আম খাবো।
কাঁচা আম খাওয়া নাকি ভালো ঠাম্মা বলছিল সেদিন। তাই সকালের খাওয়া দাওয়ার পর বুনুকে বললাম চল গাছ থেকে কাঁচা আম পেড়ে নিয়ে আসি। আম গাছটি খুব বেশি লম্বা না, তার মধ্যে গাছে অনেক আম ধরে গাছের ডাল গুলো আরও নীচে হেলে পড়েছে। তাই আম পারতে খুব একটা খাটনি করতে হয়নি হাত দিয়েই পাড়া যাছিল।
আমি আর বুনু মিলে আম পেড়ে নিয়ে এলাম। প্রথমেই আম গুলোকে খুব ভালো করে ধুয়ে নিলাম। তারপর বুনুকে বললাম আম কাটার জন্য বটি টা নিয়ে আয় রান্নাঘর থেকে আর সাথে লঙ্কা, লবণ, হলুদও নিয়ে আসিস।
সেই মতো বুনু সব জিনিসগুলো নিয়ে এলো। এবার আমি বটি দিয়ে আম কাটতে শুরু করলাম। আমগুলো সুন্দরভাবে পিস পিস করে কেটে নিলাম। আমের পিস গুলো সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখার জন্য একটি কলাপাতা কেটে নিয়ে আসলাম। কলা পাতাটি ধুয়ে তার ওপরে আমের পিস গুলো রেখে দিলাম। তারপর পাতাটি আরও সুন্দরভাবে সাজানোর জন্য লবণ ও হলুদ দিয়ে একটি হার্ট সেপ তৈরি করলাম, সাথে একটি লঙ্কা ও কয়েকটি নীলকণ্ঠ ফুলও দিয়েছিলাম।
এরপরেই আমাদের কলাপাতাটি সুন্দরভাবে সেজে উঠল। তারপর আমরা কয়েকটি ছবি তুলে নিলাম স্টিমিতে পোস্ট করার জন্য।
কলাপাতাটি সাজানোর আগেই আমরা কাঁচা আমের পিস খেয়ে নিয়েছি। এই গরমকালে প্রথম কাঁচা আম খাচ্ছি বলে কথা, তাই কলাপাতায় সাজিয়ে ছবি তলা পর্যন্ত তর্ সই ছিল না। আমগুলো বড় হওয়ার অপেক্ষাতেই ছিলাম, কবে বড় হবে আর কবে আমরা খেতে পারব।
আমের পিস গুলি লবণ দিয়ে খেয়েছিলাম, খেয়ে যেন মন ভরে গেলো। এই কাঁচা আমের জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। তবে হলুদ আর লঙ্কা শুধুমাত্র ডেকোরেশনের জন্য নিয়েছিলাম।
এক বছরের অপেক্ষা যেন আজ সার্থক হল কাঁচা আম খেয়ে।
আজ এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের গল্পটি আপনাদের সবার ভালো লেগেছে। সবাই ভালো থাকবেন। ধন্যবাদ।



