চড়কপূজা, পর্ব -২।
আশা করি, আপনারা সকলে অনেক ভালো আছেন। খুবই অস্বস্তিতে দিন পার হচ্ছে। যেভাবে গরম পড়েছে তাতে সকলেই স্বস্তিতে নেই বোধহয়। তার পাশাপাশি বিদ্যুৎ এর ঝামেলা তো আছেই। বিশ্বের টালমাটাল পরিস্থিতির শিকার আমরাও। দেশে জ্বালানির অভাবের কারনে বিদ্যুৎ সংযোগ ভীষণ ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
যাই হোক, আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।
চড়কপূজার কিছু মুহুর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় আজও আপনাদের মাঝে চড়কপূজার আরও কিছু মুহুর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি।
আজ ছিলো পূজার শেষ দিন। তাই সকলের কাজের চাপও ছিলো অনেক। অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গ্রামের সকলে কাজে সাহায্য করতে পারে বিধায় কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়।
কিন্তু চড়কপূজায় যারা সন্ন্যাসী থাকে বা বালা থাকে আর প্রধান পূজারী ছাড়া কেউ পূজার কাজে হাত দিতে পারে না তাই তাদের অনেক চাপ হয়ে যায়।
আজ যেহেতু পূজার শেষ দিন তাই অনেক ধরনের অনুষ্ঠান ছিলো। যত বেশি অনুষ্ঠান কাজের চাপও তত বেশি। আজ আমাদের এখান খাড়া সন্ন্যাসী, পাটার সন্ন্যাসী, আগুন সন্ন্যাসী, বাণ নেওয়া কাটা সন্ন্যাসী, চড়ক ঘুল্লি হওয়ার কথা ছিলো। যারা চড়কপূজা দেখেছেন তারা এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারবেন।
সব থেকে আকর্ষণ ছিলো চড়ক ঘুল্লি নিয়ে। এখানে দু'জন মানুষের পিঠে বঁড়শি ফুটিয়ে ঝুলিয়ে ঘোরানো হয়।
দুপুরের পরপরই পূজার কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছিলো। অগ্নি সন্ন্যাসীতে আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। তাই আগে থেকে আগুন প্রস্তুত করে রাখতে হয়।
প্রায় ২২ মণ কাঠ পুড়িয়ে জলন্ত কয়লা তৈরি করা হয়।
আগুনের তীব্রতা হয়ত আলোতে ভালো বোঝা যাচ্ছে না তবে হঠাৎ করে কারেন্ট চলে যাওয়ার পর আগুন খুব ভালো করে বোঝা যাচ্ছিলো। ঈশ্বরের কৃপা না থাকলে আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়।
অনেকেই আগুনের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো তবে একে অপরের মধ্যে অনেক পার্থক্য ছিলো। কেউ জোরে হেঁটে পার হয়ে যাচ্ছিলো আবার কেউ খুব ধীর গতিতে হেঁটে যাচ্ছিলো এখানেই পার্থক্য গড়ে দেয় ভক্তি আর ভগবানের প্রতি একাগ্রতার।
চড়কপূজার সাথে ভাঙ্গড় সাজা ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে। ছোটোবেলা ভাঙ্গর দেখলে কি যে ভয় পেতাম সেটা বলে বুঝাতে পারবো না।
অনুষ্ঠান আগত বাচ্চারাও ভয় পাচ্ছিলো, ওদের ভীত মুখটা দেখে ছোটোবেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ছিলো যখন ভাঙ্গর দেখলে মায়ের পিছে গিয়ে লুকাতাম।
পাটার ভাঙা দেখতে ভীষণ ভয় লাগে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হব কতই না সহজ তবে বাস্তবে নিজে করতে গেলে বোঝা যাবে চোখে দেখা আর নিজে করার মধ্যে পার্থক্য আছে।
সরাসরি না করলেও তবে দুর থেকে দাঁড়িয়ে খানিক অনুভব করার চেষ্টা করলাম। এত উঁচুতে উঠে নিচের জালে ঝাঁপিয়ে পড়া এটা সত্যি খুবই রিস্কি মনে হয় আমার কাছে। না জানি, তাদের ভীতর কোনো একটা শক্তি ভর করে।
সব শেষ আরম্ভ হলো চড়ক ঘুল্লি।
ছবিতে খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না কারন আলোর কারনে ছবি পরিষ্কার তোলা যায় নি। তবে একটা ভালো ভাবে দেখলে বুঝতে পারবেন।
দু'জন মানুষের পিঠে বঁড়শি ফুটিয়ে ঘুরানো হচ্ছে। সত্যি বলতে, এটা দেখলে আমার গায়ের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি অনুভব হয়। ভাবলে মনে হবে অসম্ভব আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করা ঈশ্বরের কৃপা ছাড়া সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানের প্রতিটা মুহুর্ত আপনাদের মাঝে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। আশা করি, আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে।
ভালো থাকবেন।









Thank you ma'm