গ্রামে বেড়ে ওঠার স্মৃতি
Image Created by OpenAI
গ্রাম নামক এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসংখ্য অনুভূতি, গল্প আর স্মৃতির ভান্ডার। শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা আর কৃত্রিম জীবনের বাইরে যে এক শান্ত এবং নির্মল পৃথিবী আছে, তার নামই হলো গ্রাম। আমার শৈশবও বেড়ে ওঠার বড় একটা অংশ কেটেছে গ্রামে, তাই গ্রামের কথা মনে পড়লেই মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালো লাগা আর নস্টালজিয়া কাজ করে। ভোরবেলা পাখির ডাক আর মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙা, এটাই ছিল প্রতিদিনের শুরু। সেখানে শহরের মতো অ্যালার্ম ক্লকের প্রয়োজন পড়ত না। কুয়াশা ভেজা সকাল, ঘাসের ওপর শিশিরবিন্দু, দূরে সবুজ ধানের ক্ষেত ইত্যাদি সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
তখন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা ভিডিও গেম ছিল না, কিন্তু তবুও জীবন ছিল আনন্দে ভরপুর। দুপুরের সময়টা ছিল সবচেয়ে মজার। বন্ধুদের নিয়ে মাঠে দৌড়ঝাঁপ, গাছের ডালে চড়া, কাঁচা আম পেড়ে খাওয়া ইত্যাদি এইসব ছিল আমাদের দৈনন্দিন আনন্দ। কখনো লুকোচুরি, কখনো গোল্লাছুট, কখনো আবার কাবাডি, এই খেলাগুলোতেই কেটে যেত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। খেলতে খেলতে কখন যে সূর্য অস্ত চলে যেতো, বুঝতেই পারতাম না। এছাড়া বর্ষাকাল ছিল আলাদা এক অনুভূতি। চারদিকে জল আর জল, কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যেত। তবুও যেনো আনন্দের শেষ ছিল না, বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল খেলা, কাগজের নৌকা ভাসানো, কিংবা পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়া ইত্যাদি সবকিছুই যেন ছিল এক উৎসব। গ্রামে কাটানো শৈশব ছিল এক আলাদা অনুভূতি।
