ভালো থেকেও কেনো ভিতরে ভিতরে খারাপ লাগে
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
ভালো থেকেও ভিতরে ভিতরে খারাপ লাগাটা এখনকার সময়ে খুব সাধারণ একটা অনুভব, কিন্তু খুব কম মানুষ এটা খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে। বাইরের দুনিয়ায় আপনি হাসছেন, কথা বলছেন, কাজ করছেন, সবাই দেখছে আপনি ঠিক আছেন। কিন্তু ভেতরে একটা চাপা কষ্ট, অজানা অস্বস্তি, একধরনের শূন্যতা লেগেই আছে। কেনো এমন হয়?এর কারণ অনেক কিছু হতে পারে। আপনি হয়তো এমন কিছু অনুভব করছেন, যেটা কাউকে বোঝাতে পারছেন না। চারপাশের মানুষজন আপনার অনুভূতি বুঝে না, শুধু আপনাকে দায়িত্বে দেখতে চায়। আপনি যেনো সব সামলে নিচ্ছেন এমনটা ভাবা হয়, অথচ আপনার নিজের ভেতরেও তো একটা যুদ্ধ চলে। এই যুদ্ধটা যখন কাউকে বলা যায় না, তখনই ভিতরে ভিতরে খারাপ লাগাটা শুরু হয়।
আর একটা বিষয় হলো অনেক সময় আমরা নিজেকে নিয়ে, নিজের জীবন নিয়ে খুব বেশি প্রশ্ন করতে শুরু করি। আমি কী ঠিক আছি? আমার এই চলাটা কি ঠিক দিকেই যাচ্ছে? আমার জন্য কেউ আছে তো? কেউ কি আমাকে সত্যি করে বোঝে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে মন ভেতরে ভেতরে বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। ভালো থাকার অভিনয়টা তখন একটা অভ্যাস হয়ে যায়, আর সত্যিকার অনুভূতি চাপা পড়ে যায়।আরেকটা কারণ হতে পারে, আপনি হয়তো সব কিছু ঠিকঠাক করেও নিজের জন্য কিছু করছেন না। আপনি সবার পাশে আছেন, সবার খেয়াল রাখছেন, কিন্তু নিজের মনের কথা শোনার সময় কোথাও হারিয়ে গেছে। নিজের ইচ্ছেগুলো, স্বপ্নগুলো, ছোট ছোট আনন্দগুলোকে আপনি হয়তো নিজেই ভুলে গেছেন। তখন আপনার হাসির পেছনেও কষ্ট লুকিয়ে থাকে।
সবকিছু ঠিক থাকলেও খারাপ লাগাটা বোঝায়, আপনার মন কিছু বলছে, যা আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। হয়তো ক্লান্তি জমে আছে, হয়তো ভরসার অভাব, হয়তো একাকীত্ব। এই অনুভূতিগুলো একদিনে আসে না, ধীরে ধীরে জমে, আর আপনি বুঝতেই পারেন না কখন সেটা ভারি হয়ে গেছে।এই কারণে মাঝে মাঝে নিজেকে সময় দেওয়া দরকার। নিজের সাথে একা কিছু সময় কাটানো দরকার। নিজের মনের কথা শুনতে হবে। সব কিছুর মাঝে আপনি নিজে কেমন আছেন, সেটা বোঝা খুব দরকার। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনার অনুভূতিগুলোকে ছোট ভাববেন না। ভালো থেকেও যদি ভেতরে খারাপ লাগে, তাহলে সেটা নিয়েও কথা বলা দরকার। নিজের মনকেই সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

