দেবী মায়ের মূর্তি
বাংলার হৃদয়ে যে উৎসবটি সবচেয়ে গভীর আবেগ, ভক্তি এবং আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, তা হলো দুর্গাপূজা। বিশেষ করে কলকাতা ও সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এই সময় দেবী মায়ের মূর্তি যেন শিল্প, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের এক মহামিলন ঘটিয়ে থাকে। দেবী দুর্গার মূর্তি শুধু পূজার জন্য নয়। এটি আমাদের বাঙালিদের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা এবং শক্তির প্রতীক। দেবী মায়ের মূর্তির দিকে তাকালেই প্রথমে চোখে পড়ে তাঁর অতুলনীয় মহিমা। বহু হাতবিশিষ্ট দেবী এবং সেই হাতগুলোতে বিভিন্ন অস্ত্র রয়েছে, যেমন- ত্রিশূল, চক্র, শঙ্খ ইত্যাদি সবই অসুর শক্তির বিরুদ্ধে ধর্মের জয়ের প্রতীক চিহ্ন। মায়ের মুখমণ্ডলে একদিকে থাকে মমতা, অন্যদিকে থাকে অদম্য শক্তির প্রকাশ।
এই দ্বৈত রূপই তাঁকে “মা” এবং “যোদ্ধা”- দুই পরিচয়ে পূর্ণ করে। মূর্তির অলঙ্করণও অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভাবে তৈরী করা হয়ে থাকে। এখানে মুকুট, কানের দুল, হার, বালা ইত্যাদি সবকিছুতেই থাকে ঐতিহ্যবাহী নকশা। অনেক সময় মূর্তিকে এমনভাবে তৈরি করে থাকে, যেন মনে হয় পাথর খোদাই করা স্থায়ী ভাস্কর্য, যদিও তা মাটি দিয়ে নির্মিত। দেবী মায়ের মূর্তির অন্যতম প্রধান অংশ হলো মহিষাসুর বধের দৃশ্য এবং সেটি খুব ভালোভাবেই এখানে ফুটিয়ে তুলেছে। দেবী তাঁর সিংহ বাহনে আরোহী হয়ে অসুরকে বধ করছে, এমন দৃশ্য মানবজীবনে অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। মূর্তিকে সাধারণত এমন পরিবেশে স্থাপন করা হয়, যেখানে মন্দিরের মতো গম্ভীর ও পবিত্র অনুভূতি সৃষ্টি হয়। দেবী মায়ের মূর্তি শক্তি, সৌন্দর্য ও ভক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ।

