ছোটবেলায় আমড়া নিয়ে মজার ঘটনা

in আমার বাংলা ব্লগ4 years ago (edited)


Copyright Free Image Source: Pixabay


অনেক দিন আগের কথা । তখন আমি একদমই ছোট্ট । খুব সম্ভবত তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন । আমাদের গ্রামে হাটখোলা নামে একটা জায়গা ছিল । হাটখোলায় সপ্তাহে দুই দিন হাট বসতো । এত দিন পরে মনে নেই কবে কবে ছিলো হাটবার । তবে, বৃহস্পতিবার একদিন বসতোই । কারণ, ঘটনাটি বৃহস্পতিবারই ঘটেছিলো ।

তো, শুরু করি মূল ঘটনা । একদিন বৃহস্পতিবার বিকেলবেলা হাটে গিয়েছি বাবার সাথে । হাটখোলার হাট বসতো একেবারে নদীর কিনারে । হাটখোলার পাশ দিয়ে এঁকে বেঁকে ছোট্ট একটা নদী বয়ে গিয়েছে । নদীর এই পাশটা যেখানে হাট বসতো সেখানে গাছপালা শূন্য একটি মাঠের মতো ছিল । এটাই হাটখোলার মাঠ । এই মাঠেই সপ্তাহে দুই দিন হাট বসতো ।

আমার মনে আছে সেদিন দুপুরের পর থেকে বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি পড়েছিল । রাস্তা ঘাট কর্দমাক্ত, পিচ্ছিল । কারণ শ্রাবণ মাস চলছিল তখন । বাবা নেবেই না আমাকে হাটে । বর্ষার দিনে বাচ্চা কাচ্ছা সামলিয়ে বাজার করে আসা বেজায় কঠিন কাজ । তবুও আমি যাবোই যাব । শেষমেশ আমার জেদের কাছে নতি স্বীকার করে বাবা আমাকে নিয়ে হাটে গেলো ।

হাটে গিয়েই শুরু হয়ে গেলো আমার খাই খাই । কারণ, এই কাজেই তো হাটে আসা আমার । আসল কাজ তো এটাই । বাবা যথেষ্ঠ বিব্রত হয়ে পড়লো । বাজার করবে না খাওয়াবে আমাকে ? রাগে গজ গজ করতে করতে ছোলা-বুট মাখা, বরফ (আইসক্রিম নয় ), গজা এসব কিছু কিছু কিনে দিচ্ছে আর আমি মুহূর্তের মধ্যে খেয়ে ফেলছি । আর পাত খালি হলেই আবার আবদার শুরু করছি ।

বাবা রেগে মেগে অস্থির । বাট, ওসব আমি থোড়াই কেয়ার করি । হাটে এমনিতেই আসতে পারি না । মাসে ১-২ দিন আসতে পারি । তাই, মুখ চালাচ্ছি কোনোদিকে কর্ণপাত না করে । যেটা দেখছি সেটাই খেতে চাচ্ছি । আর বাবা রেগে গেলেও কিনে দিতে বাধ্য হচ্ছে শেষমেশ ।

এভাবে খাওয়া আর বাজার করা চলছেই । এর মধ্যে দেখলাম সেই খাদ্যবস্তুটা । যার প্রতি একটা দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল ছোটবেলায় । কাঁচা আমড়া মাখা । ঝাল, নুন, কাসুন্দি আর মশলা দিয়ে মাখা কাঁচা আমড়া । দেখলেই জিভে জল চলে আসে । তো, দেখেই মাটিতে খুঁটি গাড়লাম । আর আমাকে সেখান থেকে নাড়ায় এমন সাধ্য কার ?

বাধ্য হয়ে বাবা কিনে দিলো । দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছিলাম । বাবা হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো সাথে । বাবার বাজার করা চলছে আমার খাওয়াও চলছে । এভাবে আস্তে আস্তে বাবার বাজার করা হয়ে গেলো । আমার খাওয়া চলছেই । শেষ হচ্ছে না । বাবার মনে খটকা লাগলো ।

এতটুকু আমড়া মাখা এখনো শেষ হয়নি খাওয়া ? শেষমেশ বাবা আবিষ্কার করলো যে আমি আমড়া মাখা শেষ করে কাগজটা চেটে চলেছি । কাগজে তখনও তেল, নুন, ঝাল, কাসুন্দি মাখা । তাই, চেটে চলেছি । দেখে তো বাবা রেগেমেগে আগুন । একটান দিয়ে কাগজটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো ।

গভীরভাবে মুষড়ে পড়লাম আমি । আরো একবার কাগজটা চাটতে মনে গভীর একটা ইচ্ছে ছিল আমার । সেটি আর পূরণ হলো না । বহুদিন পর্যন্ত এ দুঃখটা মনের গভীরে ছিল আমার ।

এখন ভাবলেই খুব হাসি পায় আমার । ছোটবেলা আসলেই বেশ মজার ।

Sort:  

Beautiful...
Please support my blog 🙏

Hello rme you must superb post

Nice post! Do you have a donations page like on Poof https://www.poof.io/ or Venmo?

The post is very nice. I hope for such a post in the future. I enjoyed reading the post. I learned a lot.

This post has been upvoted by @italygame witness curation trail


If you like our work and want to support us, please consider to approve our witness




CLICK HERE 👇

Come and visit Italy Community



Hi @rme,
my name is @ilnegro and I voted your post using steem-fanbase.com.

Come and visit Italy Community

 4 years ago 

ছোটবেলার কথা মনে হলে , সত্যি এখন হাসি পায় ।আপনার আমড়া মাখানো নুন,ঝাল,কাসুন্দি পড়তেই জিভে জল চলে আসলো । বাইরের খাবারে আমার অনীহা থাকলেও , পথে এই বানানো আমড়ার দিকে খুব লোভ আমার এখনও ।

 4 years ago 

হাহহাহহাহা দাদা গল্পটা আরো বড় হলে আরো কিছু সময় হাসতে পারতাম হাহহাহা। ভাগ্যিস কাগজটা খেয়ে ফেলেন নাই 😃😃😃😃। তবে এটা সত্যি যতোই খাই যদি ফিল থাকে লাস্টে আরো একটু খাবো সেটা না হলে আর ভালো লাগে না 😄

 4 years ago 

আমড়া মাখার কাগজ কখনো চেটে না খেলেও চিপ্স ফুরিয়ে গেলে পেকেটে লেগে থাকা মসলা গুলো খাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা এখনো মনে আছে । আহা পেকেটে লেগে থাকা মসলা গুলোর স্বাদ যেন অমৃত ছিল তখন । বড়দের সামনে খেতে পারবো না তাই লুকিয়ে লুকিয়ে সে চেষ্টা চলতো ।

ছোট বেলার স্মৃতি গুলো এমনি এখন মনে পড়লে বড্ড হাসিপায় । আপনার আজকের শেয়ার করা ছোট বেলার স্মৃতি গল্প পড়ে ভীষণ হাসি পেলো ।