নদীর সাথে আমার সম্পর্ক ২ - বুড়িগঙ্গা
আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় আমার বাংলা ব্লগবাসি, কেমন আছেন আপনারা? আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করব বুড়িগঙ্গা নদীর সাথে আমার সম্পর্কের কথা।

আক্ষরিক অর্থে বুড়িগঙ্গের সাথে আমার আসলে কোন সম্পর্ক নেই। না এই নদীর তীরে আমার জন্ম হয়েছে, না এই নদী আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য কোন অংশ। তবুও এ নদীর সাথে আমার একটি ছোট্ট সম্পর্ক রয়েছে। তাও কেবল যাতায়াত নির্ভর সম্পর্ক। আমার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। আর আমরা লঞ্চে যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আর কে না জানে, ঢাকা শহরে আসতে হলে, বিশেষ করে নদীপথে, বুড়িগঙ্গা নদী পার হওয়া লাগবেই।
ছোটবেলা থেকে বুড়িগঙ্গার যে রূপ আমি দেখে আসছি, আমার মনে হয় না বুড়িগঙ্গা কারো প্রিয় নদীর তালিকায় থাকবে। বরং বলা ভালো, বুড়িগঙ্গা নদীর পানির রঙ এবং গন্ধের জন্য এটি অপ্রিয়তালিকায় থাকতে পারে। তবুও বুড়িগঙ্গার একটি অন্যতম আবেদন রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বুড়িগঙ্গার অবদান অপরিসীম। ঢাকার ইতিহাসের আগে থেকেই রয়েছে বুড়িগঙ্গার ইতিহাস। আমি ইতিহাসের আলাপ বাদ দেই। যারা বুড়িগঙ্গার তীরে গিয়েছে তারা বুঝতে পারবে এই নদী এখনো আমাদের অর্থনীতির একটি বড় ভীত।
প্রতিনিয়ত নদী পথে লক্ষ কোটি টাকার বাণিজ্য চলমান রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় বড় পাইকারি বাজারগুলো এখনও এই বুড়িগঙ্গার তীরেই অবস্থিত। দিনের যখনই যান না কেন, কর্মব্যস্ত বুড়িগঙ্গার তীরই আপনার নজরে পড়বে।
আর, বুড়িগঙ্গার পানির রঙ আর ঘ্রাণ তো সবসময় এমন ছিলোনা। প্রাচীন বর্ণনায় এটি ছিলো বেশ পরিচ্ছন্ন এক নদী। কিন্তু ঢাকা শহর আর শহরের মানুষের দোষ নিতে নিতেই এই নদী তার সৌন্দর্য হারায়৷ তার সৌন্দর্য বিলিন করেছে এই শহর আর শহরবাসীর তরে।