হৃদয়ের স্পন্দন'গল্প পর্ব:১০

in আমার বাংলা ব্লগ14 hours ago

হ্যালো বন্ধুরা,

আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করি, আপনারা সবাই ভাল আছেন সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের মাঝে হৃদয়ের স্পন্দন গল্পের একটি নতুন পর্ব উপস্থাপন করছি। আশা করি, গল্পের এই পর্বটি আপনাদের সবার ভালো লাগবে। তাই বিলম্ব না করে আমার পোস্ট লেখাটি শুরু করছি।

pexels-pixabay-258421 (9).jpg
ফোর্স


রকিকে দেখে পূজা রথের কাছে যে, মুখে হাত দিয়ে কাশি দেয়। রকি তাকিয়ে দেখে সামনে পূজা দাড়িয়ে রয়েছে। পূজাকে দেখে রকি হেসে বলে উঠলো, আরে তুমি কখন এলে? এসো বসো। পূজা ও হেসে রকিকে বলে, এই সবেমাত্র এলাম। এসে দেখি তুমি এক মনে কি চিন্তা করে যাচ্ছ। বলছি কারো কথা ভাবছো কেউ আসবে কি? রকি হাসতে হাসতে উত্তর দেয়, না না এমনি একা ছিলাম তাই আর কি। তোমার এখানে আসতে কোন প্রবলেম হয়নি তো। পূজা বলে, না কোন প্রবলেম হয়নি। রকি বলে, তোমার সেই মিষ্টি বোনটি আসেনি ওকেও আনতে পারতে একসঙ্গে বসে কফি খাওয়া যেত। পূজা বলে, ওকে আসতে বলেছিলাম কিন্তু ওর কিছু কাজ পড়ে গেছে তার জন্য আসতে পারিনি। রকি বলে, ও আচ্ছা ঠিক আছে পরে কোন একদিন নিয়ে এসো। পূজা বলে,হ্যাঁ।


রকি পূজার কাছে মেনু কার্ডটা দিয়ে বলে,তোমার পছন্দের খাবার অর্ডার করো। পূজা বলে, আমার তেমন কোন পছন্দের খাবার নেই।আমি সব খাবারই ভালো লাগে। তুমি যে কোন খাবার অর্ডার করতে পারো। এরপর রকি ওইটার কে ডেকে কিছু খাবার অর্ডার করে। খাবার আসতে আসতে রকি পূজার সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর খাবারগুলো চলে আসে এরপর দুজনে তারা গল্প করতে করতে খাবারগুলো খেতে লাগে। খাবার খেতে খেতে একটি পর্যায়ে পূজা রকিকে বলে, তুমি হঠাৎ করে আমাকে এখানে ডাকলে? রকি বলে, হয়তো বিশেষ কোনো কারণে। পূজা বলে, কি সেই কারণ বলতো শুনি? রকি বলে, সে কথা না হয় পরে বলি। আগে খাওয়াটা শেষ করি। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রকি পূজা কে বলে, পাশে একটি গঙ্গার ঘাট আছে যাবে সেখানে। পূজা বলে, গঙ্গার ঘাট আমার খুব ভালো লাগে যাওয়া যেতেই পারে। এরপর রকি ও পূজা গঙ্গা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।


পূজা গঙ্গার ঘাটে এসে রকিকে বলে, এই গঙ্গার ঘাটে বসে গঙ্গার স্রোত দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। তখন রকি বলে, এই সৌন্দর্য টা আরো বেড়ে যায় যদি সঙ্গে এক কাপ চা খাওয়া যায়। পূজা বলে, হ্যাঁ এটা তুমি ঠিক বলেছ কিন্তু এখানে কোথায় পাবো চা। রকি বলে তুমি এখানে বসো আমি চা নিয়ে আসছি। রকি চলে যায় চা আনতে কিছুক্ষণ পর রাখি মাটির ভারে করে চা নিয়ে হাজির হয়। পূজা চা খেতে খেতে রকিকে বলে, কই বললে না তো কি কারনে ডেকে ছিলে? রকি কিছুক্ষণ চুপ থেকে পূজাকে বলে, যে মেয়েটি দিনের পর দিন আমাকে না দেখে ভালোবেসে আসছে। তাকে আমি কিভাবে দূরে সরিয়ে দিতে পারি। পূজা মুচকি হেসে বলে উঠলো কথাটা ঠিক বুঝতে পারলাম না। রকি বলে, আমিও তোমাকে ভালবাসতে চাই কিন্তু তুমি আমাকে এখনো সঠিকভাবে চেনো না জানো না। আগে আমাদের মধ্যে চেনাজানা হোক তারপর না হয় সামনের পথে এগোনো যাবে।


পূজা কিছুক্ষণ চুপ থেকে রকিকে বলে, হ্যাঁ এটা তুমি ঠিক বলেছ সবেমাত্র আমাদের পরিচয় হয়েছে। আমিও ঠিক এটাই বলতে চাচ্ছিলাম তোমাকে যে আমাদের ভেতর একটু চেনা জানা হোক। কারন আমিও তোমাকে তোমার সম্পর্কে জানি না তুমিও আমার সম্পর্কে জানো না। রকি বলে, আস্তে আস্তে না হয় আমি তোমাকে চিনবো তুমি আমাকে চিনবে। পূজা বলে,এটাই ভালো হয়। পূজা বলে, আচ্ছা তোমার গঙ্গা ভালো লাগে? রকি মুচকি হেসে বলে, এতদিন ভালো লাগত না কিন্তু আজ গঙ্গা স্রোত আর গঙ্গার ঢেউ দেখতে খুবই ভালো লাগছে। পূজা খুব আস্তে বলে উঠলো হ্যাঁ সে তো ভালই লাগবে দেখতে হবে না পাশে কে রয়েছে 😊। রকি বলে উঠলো, তুমি কি কিছু বললে? আমি শুনতে পেলাম না। পূজা বলে, না না কিছু বলিনি তো। পূজা ও রকি তারা দুজনে গঙ্গার ঘাটে বসে খুনসুটি গল্পতে মেতে উঠলো। তাদের গল্প যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না ঠিক তখনই পূজার বোন রিমি তাকে ফোন করে। রিমি পূজা কে বলে, সন্ধ্যা হতে চলেছে এখন বাড়িতে ফিরতে হবে।


তারপর পূজা রকিকে বলে, আমার বাড়িতে ফিরতে হবে রাত হলে মা খুব রাগ করবে। রকি বলে, আচ্ছা ঠিক আছে চলো উঠা যাক। পূজা রকিকে বলে, তুমি কি আমার উপর রাগ করলে? রকি হাসতে হাসতে বলে, 😄😄 না না রাগ করবো কেন এটা তো কমন বিষয় মেয়েরা বাইরে থাকলে মায়ের চিন্তা হয়। আর আমি চাইনা কোন একটা সম্পর্ক শুরু হওয়ার আগে সেটি শেষ হয়ে যাক। আমরা না হয় পরে অন্য কোন দিন আরো একটু নিজেদের সময় দিব। পূজা বলে, তুমি খুব ভালো। রকি বলে, ভালো কিনা জানিনা তবে আমি পরিবেশটা বুঝতে পারি। এরপর রকি পূজাকে একটি গাড়িতে উঠিয়ে দেয় আর পূজাকে বলে, বাড়িতে পৌঁছে আমাকে ফোন করো। পূজা বলে, যদি ফোন না করি? রকি বলে, আমি খুব টেনশনে থাকবো আর তোমার ফোনের অপেক্ষায় থাকবো। পূজা হাসতে হাসতে বলে, এত টেনশন করোনা আমি পৌঁছে তোমাকে ফোন করব। পূজা রকিকে বিদায় জানিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রকি ও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

আজ গল্পের পর্বটি এখানে শেষ করছি। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন সৃষ্টিকর্তার কাছে এটাই প্রার্থনা করি।