ছোট গল্প পোস্ট ||| আমার গল্পের নাম আংটি ||| original writing by @saymaakter
আসসালামু আলাইকুম আমার বাংলা ব্লগের সকল ভাই বোনেরা আশা করছি পরিবারকে নিয়ে সুস্থ সুন্দরভাবে দিন যাপন করছেন আমি আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে মোটামুটি সুস্থ আছি।
বরাবরের মতো আবারো হাজির হলাম আপনাদের মাঝে নতুন আরেকটি ব্লগ নিয়ে আজ আমি আপনাদের মাঝে হাজির হয়েছি আমার স্বরচিত ছোট গল্প আংটি নিয়ে। রেসিপি কবিতা ডাই পোস্ট ,এই পোস্টগুলো সব সময় দিয়ে থাকি।আপনাদের সুন্দর সুন্দর মন্তব্য আমাকে অনেক উৎসাহিত করে আর সেই উৎসাহ পেয়ে লেখার আগ্রহ আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। গল্প লিখে অনেক মন্তব্য আপনাদের পেয়েছি তবে বেশ কিছুদিন হল গল্প লেখা হচ্ছে না কারণ শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যস্ততার কারণে আজ যখন সময় পেয়ে গেলাম তখন আমার প্রিয় বাংলা ব্লগের জন্য একটু সময় দিলাম। প্রিয় মানুষকে যেমন কেউ ভুলতে পারেনা তেমনি সুন্দর একটি সময় বের করে আমার মনের আবেগ অনুভূতি দিয়ে সুন্দর একটি গল্প নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হলাম।
স্বপ্নীল আর নীলিমার বেশ সাজানো গোছানো সংসার। সবেমাত্র তাদের বিয়ে হয়েছে। ইতিমধ্যে সংসারটি ও এত সুন্দর করে গুছিয়েছে যা না দেখলে বোঝার নয়। দুজনকে বেশ মানিয়েছেও ভালো। তবে দুজন দুজনার ভালোবাসা দুজনার প্রতি টেক কেয়ার। তারা নিজেদের প্রতি এতটা যত্নশীল যা সত্যি সবার নজর কাটবে। যেমন স্বাস্থ্য সচেতনতা সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন আরেকজনের জন্য খালি পেটে কি কি খেতে হবে এবং শরীর ভালো রাখতে গেলে কি কি করতে হবে সবকিছুই মাথায় রাখে। তবে স্বপ্নীল একটু কেয়ারফুল বেশি প্রত্যেকটি ব্যাপারে। কারণ যত্নশীল পুরুষরাই পারে একটি সংসার কে উজ্জীবিত করতে। পুরুষের যত্নে ভালো থাকে নারী ভালো থাকে সংসার।
স্বপ্নীল একটি ব্যাংকে জব করত। আর নীলিমা নিজের সংসার দেখাশোনা করত। স্বপ্নীল অনেকবার নীলিমা কে বলেছে তুমি কি জব করবে। নিলিমা বলতো জব করে আর কি হবে তুমি তো করছো। আর দুজনে জব করলে সংসার সামলাবে কে? রীতিমতো তাদের ভালোবাসা একজন আরেকজনের প্রতি ছিল অনেক বেশি। সপ্তাহের ছুটির দিনটি এলেই নীলিমা অস্থির হয়ে যেত।স্বপ্নীল কে এই ছুটির দিনে কি কি নতুন আইটেমে রান্না করে খাওয়ানো যায় এবং সময় বাঁচিয়ে স্বপ্নিলের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করা। তবে স্বপ্নীল নীলিমার সব আশাই পূর্ণ করে দেয়। স্বপ্নীলের জীবনে প্রথম মেয়ে নীলিমা নীলিমাকে স্বপ্নীল অনেক ভালোবাসে।
তার ভালোবাসার মধ্যে নাই বিন্দুমাত্র প্রতারণা। কারণ স্বপ্নীল ছোট থেকেই তার মায়ের আদর্শে বড় হয়েছে এবং মা তাকে সবসময়ই বলে বাবা মেয়েরা শুধু যত্ন আর ভালোবাসাই আশা করে তার প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে। তার মায়ের কথাটি তার সব সময় মাথায় ঘুরপাক খায় আর এজন্যেই সে তার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসে। স্বপ্নীলের দুটো পৃথিবী একদিকে মা অন্যদিকে তার স্ত্রী।জীবনটা ক্ষণস্থায়ী এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে অনেক লড়াই যুদ্ধ করে এই পর্যন্ত এসেছে স্বপ্নীল এখন আর পিছন দিকে ফিরতে চায় না।এক বুক আশা নিয়ে মা এবং স্ত্রীকে নিয়ে তার জীবন।স্বপ্নীল চায়না তার জীবন থেকে তার মা এবং তার স্ত্রী কেউ হারিয়ে যাক । দুটোই যেন তার হৃদপিণ্ড।নীলিমার কি কি লাগবে সবকিছুই স্বপ্নীল লিস্ট ধরে নিয়ে আসে।
তার কি খাবার পছন্দ তার কোথায় ঘুরতে যাওয়া পছন্দ সবকিছুই স্বপ্নীল মাথায় রাখতো যেন কোন কিছুতে তাদের সঙ্গে মতের অমিল না হয়। আর স্বপ্নিলের মা এমন একটি লক্ষী বউ পেয়ে নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে করছে।স্বপ্নিলের মা কোথাও ঘুরতে গেলে তার বান্ধবীদেরকে সব সময় তার ছেলে স্ত্রীর কথা এতটা প্রশংসা করত যে আশেপাশের তার বান্ধবীরা মাঝে মধ্যে বিরক্ত বোধ করত। তাইতো হঠাৎ একদিন তার এক বন্ধু বলেই ফেলল তোমার বাসায় তাহলে যেতে হয় বৌমাকে দেখতে এবং বৌমার হাতে রান্না খেয়ে আসবো।স্বপ্নিলের মা আর দেরি না করে বললো অবশ্যই তাহলে কালই চলে আসুন। রীতিমতো তার বন্ধু চলে গেল স্বপ্নিলের বাড়িতে সেখানে গিয়ে যা দেখল সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন ছেলের বউ মিলেনা সবার ভাগ্যে।
আমার পরিচয়
আমি মোছাঃ সায়মা আক্তার।আমি একজন ব্লগার, উদ্যোক্তা।কবিতা লিখতে, নতুন কোনো রেসিপি তৈরি করতে এবং নতুন নতুন ডিজাইন সৃষ্টি করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।আমি উদ্যোক্তা জীবনে সব সময় গ্রামের অবহেলিত মহিলাদের নিয়ে কাজ করি।আর এই অবহেলিত মহিলাদের কাজ নিয়ে দেশের স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রোভাইড করি এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি করছি।আর এসব কিছুর পিছনে আমার এই অবহেলিত মহিলাদের উৎসহ এবং উদ্দীপনায় সম্ভব হয়েছে।তাই সব সময় আমি অবহেলিত মানুষের পাশে থাকতে এবং অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে খুব ভালো লাগে।এজন্যই সব সময় অবহেলিত মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি এবং তাদের সহযোগিতায় নিজেকে সব সময় সম্পৃক্ত রাখি।আমি ২০২১ সালের আগস্ট মাসে স্টিমিটে যুক্ত হই।আমার বাংলা ব্লগে শুরু থেকে আছি এবং এখন পর্যন্ত আমার বাংলা ব্লগেই ব্লগিং করে যাচ্ছি।
🇧🇩আল্লাহ হাফেজ🇧🇩




