পার্থক্য
এই যে, হ্যালো! তোমার আর আমার পার্থক্যটা জানো?
তুমি সুবিধার জন্য মানুষ বদলাতে পারো। তোষামোদকে নীতি, চাটুকারিতাকে যোগ্যতা আর নতজানু হওয়াকে প্রজ্ঞা বলে চালিয়ে দিতে পারো। ক্ষমতার করিডোরে দাঁড়িয়ে বিবেককে বন্ধক রেখে হাসিমুখে করতালি দিতে পারো। কারণ তোমার কাছে অবস্থানই বড়, আদর্শ নয়।
আর আমি?
এসবের কোনোটাই পারি না। আমার জিহ্বা সত্য বলতেই স্বস্তি পায়, তোষামোদের ভাষা জানে না। মিথ্যার বিনিময়ে প্রাপ্ত সম্মান আমার কাছে অপমানেরই আরেক নাম। তাই হয়তো পদ-পদবি কম, সুবিধা কম, পরিচিতির তালিকাও ছোট। কিন্তু আত্মসম্মানের কাছে আজও আমি ঋণী নই।
আমি বিশ্বাস করি, মানুষকে বড় করে তার চরিত্র; পদবী নয়। বিবেককে বিক্রি করে অর্জিত সাফল্য যতই ঝলমলে হোক, তার ভেতরটা ফাঁপা। আয়নায় নিজের চোখে চোখ রেখে দাঁড়ানোর সাহস যদি না থাকে, তবে সেই সাফল্যের কোনো মূল্য নেই।
সবাই মাথা নোয়ায় বলে আমাকেও নোয়াতে হবে— এমন কোনো নিয়ম আমি মানি না। সবাই স্রোতে ভাসে বলে আমাকেও ভাসতে হবে— এমন বাধ্যবাধকতাও নেই। একা দাঁড়ানোর শক্তি অনেক সময় হাজার মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সম্মানের।
কারও অনুগ্রহে নয়, নিজের বিবেকের কাছে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। কারণ মেরুদণ্ড নিয়ে বাঁচার দাম আছে, কিন্তু সেই দামের বিনিময়ে অন্তত নিজের চোখে নিজেকে ছোট হতে হয় না।
মনে রেখো, চাটুকাররা সাময়িকভাবে পুরস্কৃত হয়, কিন্তু সম্মানিত হয় না। আর আত্মসম্মান নিয়ে যারা আপসহীন থাকে, তারা হয়তো সবকিছু পায় না— কিন্তু নিজেদের কখনো হারায় না।
