অক্ষরকর্মী
অতীতকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করুন। যদি এখনো শিক্ষা না নিয়ে থাকেন, তাহলে অন্তত এবার শিক্ষা নিন। ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না; ভুলের পুনরাবৃত্তি শুধু ব্যক্তি নয়, একটি জাতিকেও মূল্য দিতে বাধ্য করে। শিক্ষার দুয়ার আজও উন্মুক্ত।
তাই অহংকার নয়, আত্মসমালোচনা করুন; অন্ধ আনুগত্য নয়, বিবেককে জাগ্রত করুন। শিখুন, ভাবুন এবং নিজেদেরকে আপামর সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত করুন। কারণ ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের অভিশাপ ও মানুষের দোয়া—দুটোই দীর্ঘস্থায়ী।
মানুষ হোক শুধুই মানুষের। মানুষরূপী প্রেতাত্মাদের স্থান ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। যারা বিভেদে বাঁচে, তারা একদিন বিভেদেরই শিকার হয়। যারা মানুষের বিশ্বাসকে পুঁজি করে, তারা শেষ পর্যন্ত মানুষের বিচার থেকেই রেহাই পায় না।
আবার যদি কখনো সংকটময় মুহূর্ত আসে, যদি রাজপথ আবার মানুষের অধিকারের ভাষা হয়ে ওঠে, তাহলে যাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হেঁটেছি, তারা নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করিও, কমরেড। কোনো আহ্বানের অপেক্ষা করব না—যেভাবেই পারি হাজির হয়ে যাব। সঙ্গে তো সহোদররা থাকবেই। কারণ আমরা ব্যক্তি কিংবা পদমর্যাদার জন্য রাজপথে নামিনি; নেমেছিলাম মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রশ্নে।
দেশের মানুষের মঙ্গল হোক—এটাই আমার চাওয়া, এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি কী পেলাম, কী হারালাম, তার হিসাব রাখি না। ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর চেয়েও বড় প্রাপ্তি হলো সাধারণ মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা।
যদি মানুষ ভালো থাকে, যদি ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়, যদি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি মানবিক রাষ্ট্র পায়—তবেই আমাদের সব ত্যাগ সার্থক। আর যদি অতীতের ভুল থেকেই কেউ শিক্ষা না নেয়, তাহলে ইতিহাস আবারও তার নির্মম রায় শুনিয়ে দেবে।
