নির্মল স্বস্তি
গত কয়েকদিনের টানা গরমের পরে,গতকাল মুহূর্তের মধ্যেই পড়ন্তবেলার দিকে আবহাওয়ার বদলে যাওয়ার দৃশ্যটা চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সুবিশাল আকাশটা যেন নিজের খেয়ালে একের পর এক রং বদলাচ্ছিল। কখনো ধূসর, কখনো গাঢ় নীল, আবার কখনো কালো মেঘের আবরণে ঢেকে যাচ্ছিল দিগন্ত।
ভ্যাপসা গরমে যখন চারপাশের প্রাণ হাঁপিয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বইতে শুরু করল ফুরফুরে শীতল বাতাস। সেই বাতাস যেন আলতো করে জড়িয়ে ধরে ক্লান্ত শরীর-মনকে অনির্বচনীয় স্বস্তির পরশ দিচ্ছিল।
গরমের তেজ যেমন ধীরে ধীরে কমে আসছিল, তেমনি বারবার কালো মেঘ এসে জানিয়ে দিচ্ছিল—প্রকৃতি এবার নিজের ভার ঝেড়ে ফেলতে প্রস্তুত।
চারপাশের গাছপালা, পাখির ডাক, এমনকি নিস্তব্ধ পরিবেশও যেন অপেক্ষা করছিল সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটির জন্য। মনে হচ্ছিল প্রকৃতি যে শীতল হতে চায়, তা যেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও বুঝে গিয়েছিলেন। আর তাই কোনো এক অদৃশ্য নির্দেশে নেমে এলো বৃষ্টি।
চলতি পথেই থেমে গিয়েছিলাম। কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল না কোথাও পৌঁছে যাওয়ার ব্যস্ততা। পরম যত্নে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভিজিয়ে দিচ্ছিল চারদিক। ধুলোমাখা পথ, গাছের পাতা, মাঠের ঘাস—সবকিছু যেন এক নিমিষেই ধুয়ে-মুছে নতুন রূপে সেজে উঠল।
মাটির সোঁদা গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়তেই মনটাও অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে উঠল। হালকা শীতলতার সেই পরশে মনে হলো, প্রকৃতি যেন আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেল, আর তার সঙ্গে আমরাও ফিরে পেলাম নির্মল স্বস্তি।
ধন্যবাদ।


