সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধুত্ব ভাঙ্গছে!
আজকে আমি এসেছি আপনাদের সকলের সাথে একটি জেনারেল রাইটিং পোস্ট শেয়ার করতে। আমার লেখার মাধ্যমে আমার চিন্তা ভাবনা গুলো আপনাদের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই লেখাগুলো শেয়ার করা।
আশা করছি যে আপনারা আপনাদের মূল্যবান মন্তব্যের মাধ্যমেই আমার এই লেখাটি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবেন এবং আপনাদের মতামত ব্যক্ত করবেন। আমি যদি কোনো কিছু ভুল বলে থাকি। তাহলে অবশ্যই আমাকে শুধরে দিতে ভুলবেন না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আজকের যুগে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ,ইনস্টাগ্রাম কিংবা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা মুহূর্তেই বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে পারি,পুরোনো পরিচিতদের খুঁজে বের করতে পারি কিংবা নতুন বন্ধু বানাতে পারি। কিন্তু এর উল্টোপিঠে একটি তিক্ত বাস্তবতা লুকিয়ে আছে এই মাধ্যমগুলো অনেক সময় বন্ধুত্ব গড়ার চেয়ে ভাঙার ক্ষেত্রেই বেশি ভূমিকা রাখছে।প্রথমেই আসে ভুল বোঝাবুঝির কথা। অনলাইনে লেখা কথা সবসময় সঠিকভাবে বোঝা যায় না। অনেক সময় সামান্য মন্তব্য বা ইমোজিও ভুলভাবে গ্রহণ করা হয়, যা থেকে ঝগড়া বা সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয়। বাস্তবে মুখোমুখি কথা বললে যে বিষয় সহজেই মিটে যেত, অনলাইনে সেটাই বড় সমস্যায় রূপ নেয়।
আরেকটি দিক হলো তুলনা এবং ঈর্ষা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবাই নিজেদের ভালো দিকগুলো শেয়ার করে,যা দেখে অন্যদের মনে হীনমন্যতা বা ঈর্ষার জন্ম হয়। এমনকি অনেক পুরোনো বন্ধুত্বও ভেঙে যায় শুধুমাত্র এই কারণে যে, কেউ ভাবছে তার বন্ধু হয়তো তাকে আর গুরুত্ব দিচ্ছে না কিংবা ইচ্ছে করে উপেক্ষা করছে।এছাড়া ভার্চুয়াল বন্ধুত্বের প্রতি আসক্তি অনেক সময় বাস্তব সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মানুষ অনলাইনে সময় দিতে দিতে বাস্তব জীবনের বন্ধুদের জন্য সময় বের করতে ভুলে যায়। এতে ধীরে ধীরে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বন্ধুত্ব ভাঙার পথে চলে যায়।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো গোপনীয়তা ও বিশ্বাসের সমস্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতি শেয়ারিং বা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ অনেক সময় বন্ধুদের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা ধরনের গুজব, হ্যাকিং বা মিথ্যা প্রচারণা, যা সহজেই বন্ধুত্ব নষ্ট করে দিতে পারে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি মাধ্যম, তেমনি অসচেতন ব্যবহার এটিকে বন্ধুত্ব ভাঙার হাতিয়ারও বানিয়ে ফেলে। তাই বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে শুধু ভার্চুয়াল যোগাযোগ নয়,বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও সময় দেওয়া,বোঝাপড়া বাড়ানো এবং পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা জরুরি।

