কালো খামের চিঠি ( পর্ব ৬ )

in আমার বাংলা ব্লগ16 hours ago
হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি।

1000088311.png

Image Created by OpenAI

আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর ষষ্ঠ পর্ব শেয়ার করে নেবো। ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা- যদি তুমি এই ডায়েরি পড়ো, তাহলে বুঝবে আমি আর বেঁচে নেই। নিচে নাম- ঐশী। অর্ণবের চোখ ঝাপসা হয়ে এল এবং সে দ্রুত পরের পাতায় গেল। সেখানে লেখা- আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ আছে, যাদের আমরা মানুষ ভাবি। কিন্তু তারা আসলে অন্য কিছু। তারা সত্য লুকিয়ে রাখে এবং তারা মানুষের স্মৃতি পর্যন্ত বদলে দিতে পারে। পরের কয়েকটি পাতা ছিঁড়ে ফেলা ইচ্ছে করেই।তারপর আবার লেখা শুরু- দাদা যদি কখনো এটা পড়ে, তাহলে সে যেন কাউকে বিশ্বাস না করে। বিশেষ করে...বাকিটা কেটে দেওয়া।

কালো কালি ঢেলে পুরো লাইন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অর্ণবের শরীর শিউরে উঠল। ঠিক তখনই তার পেছনে পায়ের শব্দ। ধীরে এবং খুব ধীরে- টক...টক...টক...। এরপর সে ঘুরে দাঁড়াল, কিন্তু সেখানে নেই। আবার সামনে ফিরতেই দেখল- ডায়েরির শেষ পাতাটি নিজে থেকেই উল্টে গেছে।সেখানে লাল কালি দিয়ে লেখা- তুমি একা নও। অর্ণব দ্রুত চারদিকে টর্চের আলো ফেলল। চারিদিক নিস্তব্ধতা, কিন্তু অনুভূতি হচ্ছিল কেউ তাকে দেখছে। হঠাৎ করেই ক্লোক রুমের পুরোনো লাউড স্পিকার, যা বহু বছর ধরে নষ্ট, সেটি থেকে কর্কশ আওয়াজ ভেসে এল- ১৩ নম্বর যাত্রী... আপনার ট্রেন প্রস্তুত...। অর্ণবের শরীর জমে গেল।এরপর এক নারীকণ্ঠ- দাদা অর্থাৎ সেটা ঐশীর কণ্ঠ!

এরপর সে ছুটে বাইরে বেরিয়ে এল, ঠিক ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে কালো রেইনকোট পরা সেই মানুষ। এবার প্রথমবারের মতো লোকটি কথা বলল- তুমি দেরি করে ফেলেছ। অর্ণব চিৎকার করে বলল- তুমি কে? এসব কেন করছ? লোকটি ধীরে ধীরে মাথা তুলল, কিন্তু তার মুখ পুরোপুরি ছায়ায় ঢাকা। শুধু দুটি অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে চোখ দেখা যাচ্ছে। সে বলল- যে খেলাটা শুরু হয়েছে, সেটা তোমার জন্মেরও আগে শুরু হয়েছিল। ঐশী কোথায়? এরপর লোকটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল- মৃতরা কখনো মিথ্যা বলে না, জীবিতরাই বলে। এ কথা বলেই সে পেছনে হাঁটতে শুরু করল এবং অর্ণব দৌড়ে তাকে ধরতে গেল। কিন্তু করিডোরের মোড় ঘুরতেই লোকটি উধাও। মাটিতে পড়ে আছে আরেকটি কালো খাম।

অর্ণব খামটি খুলল, ভেতরে একটি মাত্র ছবি, একটি পুরোনো স্কুল ভবন। আর ছবির পেছনে লেখা- সবকিছুর শুরু এখানেই। নিচে তারিখ- ১৭ জুলাই, ২০০৮। অর্ণব স্তব্ধ হয়ে গেল। এই তারিখটাই ছিল সেই দিন, যেদিন ঐশী প্রথম নিখোঁজ হয়েছিল কয়েক ঘণ্টার জন্য। তখন সবাই ভেবেছিল সে বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু সে ফিরে আসার পর আর কখনো সেই দিনের কথা বলেনি। হঠাৎ অর্ণবের মনে পড়ল- ঐশী সেদিন বাড়ি ফিরে ভীষণ ভয় পেয়েছিল। বারবার জানালার বাইরে তাকাচ্ছিল আর বলছিল- ওরা আমাকে দেখে ফেলেছে। তখন কেউ কথাটার গুরুত্ব দেয়নি। আজ এত বছর পরে সেই কথাগুলো নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে এল।....


শুভেচ্ছান্তে, @winkles


Support @heroism Initiative by Delegating your Steem Power

250 SP500 SP1000 SP2000 SP5000 SP

Heroism_3rd.png


Original image no longer available