স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ৭ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের সপ্তম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর সেদিন আর অর্ণব বেশি আঁকতে পারেনি। তার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা ঘুরছে- আগামীকাল থেকে সবকিছু বদলে যেতে পারে। এরপর সে পার্কে ফিরে আসে, কিন্তু আজকের রাতটা আর আগের মতো না ।আজ তার চোখে ভয় নেই, আছে উত্তেজনা। রাতের আকাশে অসংখ্য তারা জ্বলছে। অর্ণব আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বললো- আমি এই সুযোগটা নষ্ট করব না। যাই হোক, আমি লড়ব এই পরিস্থিতির সঙ্গে। আজকের দিনটা তার জীবনে একটা বড়ো মোড় এনে দিয়েছে। একটা অচেনা মানুষ, একটা অপ্রত্যাশিত সুযোগ, আর একটা নতুন আশা। সব মিলিয়ে অর্ণব এখন দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন পথের সামনে।
সে জানে না সামনে কী আছে, কিন্তু সে প্রস্তুত। কারণ- সে এগিয়ে চলেছে তার “স্বপ্নের ঠিকানা”-র দিকে। সকালটা আজ সত্যিই আলাদা রকমের ছিল। অর্ণবের চোখে ঘুম কম, কিন্তু উত্তেজনা অনেক বেশি। সারা রাত সে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনি- বারবার ঘুম ভেঙে গেছে, বারবার সেই কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখেছে। আজ সে যাচ্ছে- তার জীবনের প্রথম “স্টুডিও”-তে। ঠিকানাটা খুঁজে পেতে একটু সময় লাগে। শহরের একটু নিরিবিলি এলাকায়, পুরোনো কিন্তু একটা পরিষ্কার দোতলা বাড়ি রয়েছে। বাইরে একটা ছোট বোর্ডে লেখা- Creative Hands Art Studio. অর্ণব কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেনো ধড় ফড় করছে। নতুন জায়গায় প্রথমবার আসলে এইরকম হয়ে থাকে।
এটাই কি সেই জায়গা, যেখান থেকে তার নতুন জীবন শুরু হবে? সে ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢোকে। ভেতরে ঢুকেই অর্ণব থমকে যায়। কারণ চারপাশে রঙের গন্ধ, দেয়ালে অসাধারণ সব পেইন্টিং, কেউ ক্যানভাসে কাজ করছে, কেউ স্কেচ করছে। এই জায়গাটা যেন পুরোপুরি অন্য একটা পৃথিবী। এখানে কেউ তাকে চেনে না, কিন্তু সবাই যেন তার মতোই নতুন আর কম অভিজ্ঞ এবং নিজের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচে। সেই ভদ্রলোকের কণ্ঠস্বর- এসেছো? অর্ণব ঘুরে দেখে- গতকালের সেই মানুষটি দাঁড়িয়ে আছে। সে হেসে বলল- আমি রাহুল। এখানে সবাই আমাকে ‘রাহুল স্যার’ বলে ডাকে। অর্ণব মাথা নত করে বলল- আমি অর্ণব। রাহুল স্যার তার কাঁধে হাত রেখে বলল- ভয় পেয়ো না। এখানে সবাই একসময় তোমার জায়গাতেই ছিল।
অর্ণবকে একটা ছোট্ট জায়গা দেখিয়ে দেওয়া হয় এবং রাহুল স্যার বলল- এখানেই তুমি কাজ করবে এখন থেকে। প্রথম কাজ হিসেবে তাকে একটা সহজ স্কেচ করতে বলা হয়। অর্ণব মন দিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু এবার একটা চাপ পড়ে যায়, কারণ এটা শুধু নিজের জন্য না, অন্যদের সামনে প্রমাণ করার জন্য। চারপাশে অন্যদের কাজ দেখে অর্ণব একটু ভয় পায়। তাদের কাজ অনেক নিখুঁত এবং অনেক অভিজ্ঞ। সে মনে মনে ভাবে- আমি কি এখানে মানিয়ে নিতে পারব? তার হাত আবার একটু কাঁপতে শুরু করে। স্কেচ করতে করতে একটা জায়গায় ভুল হয়ে যায় এবং ছবির পুরো ব্যালান্সটাই নষ্ট হয়ে যায়। অর্ণব থমকে যায় এবং তার মাথায় আবার সেই পুরোনো ভয় ফিরে আসে- আমি পারব না।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





