কালো খামের চিঠি ( পর্ব ১ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে নতুন গল্প "কালো খামের চিঠি" এর প্রথম পর্ব শেয়ার করে নেবো। একদিন বৃষ্টি পড়ছিল সকাল থেকেই। আকাশ যেন নিজের সমস্ত আলো গুটিয়ে নিয়ে শহরটাকে ধূসর এক চাদরে ঢেকে দিয়েছিলো। রাস্তার পাশের পুরোনো কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো ভিজে নুয়ে পড়েছে, আর বাতাসে ভেসে আসছিল ভেজা মাটির গন্ধ।এমন আবহাওয়া অর্ণবের খুব প্রিয় ছিল একসময়। এখন আর কোনো কিছুর প্রতিই তার আলাদা অনুভূতি কাজ করে না। প্রতিটি সকাল তার কাছে একই রকম, প্রতিটি রাতও যেন একই অন্ধকারে মিশে যায়। অর্ণবের বয়স বত্রিশ, পেশায় সে একজন ফ্রিল্যান্স লেখক। কয়েক বছর আগে তার লেখা রহস্য গল্পগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
কিন্তু জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সে প্রায় সবকিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। সেই দুর্ঘটনায় সে তার ছোট বোন ঐশীকে হারিয়েছিল। পুলিশের তদন্তে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে বন্ধ হয়ে গেলেও অর্ণব আজও বিশ্বাস করে, ঐশী নিজের ইচ্ছায় পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারে না। সেই ঘটনার পর থেকেই অর্ণব মানুষের সঙ্গে মেলামেশা কমিয়ে দিয়েছে। শহরের এক পুরোনো দোতলা বাড়ির উপরের তলায় ভাড়া থাকে সে এবং নিচতলায় থাকেন বৃদ্ধ বাড়িওয়ালা নিবারণ বাবু। সে খুবই শান্ত মানুষ। প্রায়ই বলেন- "মানুষের চেয়ে স্মৃতিই বেশি ভয়ংকর।" অর্ণব কখনো উত্তর দেয় না, সেদিনও বেলা গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে। দরজায় হালকা টোকা পড়তেই সে বিরক্ত মুখে দরজা খুলল। বাইরে কেউ নেই, মেঝেতে পড়ে আছে একটি খাম।
খামটি অদ্ভুত অর্থাৎ সম্পূর্ণ কালো। কোনো ডাক টিকিট নেই, কোনো কুরিয়ারের সিল নেই, এমনকি প্রেরকের নামও নেই। শুধু সামনের দিকে সাদা কালি দিয়ে লেখা- "অর্ণব সেনের জন্য। নিজের হাতে খুলবেন।" অর্ণব চারদিকে তাকাল, কিন্তু করিডোর ফাঁকা। সিঁড়ির দিকে তাকিয়েও কাউকে দেখা গেল না। সে নিচে নেমে নিবারণ বাবুকে জিজ্ঞেস করল- কেউ কি আমার জন্য কিছু দিয়ে গেল? নিবারণ বাবু বিস্মিত হয়ে বললেন- না তো। আমি তো সকাল থেকে নিচেই বসে আছি, কিন্তু কাউকে দেখিনি। অর্ণব আর কিছু বলল না। ঘরে ফিরে এসে সে অনেকক্ষণ খামটার দিকে তাকিয়ে রইল। অকারণ এক অস্বস্তি বুকের ভেতর জমতে লাগল। শেষ পর্যন্ত খামটি খুলল, ভেতরে মাত্র একটি কাগজ এবং কাগজে মাত্র একটি বাক্য- যে সত্য তুমি খুঁজছ, সেটা এখনো বেঁচে আছে। আজ রাত ১২টায় পুরোনো রেল স্টেশনে এসো। কাউকে জানিও না।
কোনো স্বাক্ষর নেই। অর্ণবের হাত কেঁপে উঠল। "যে সত্য তুমি খুঁজছ... এই কথাটা তার বুকের গভীরে চাপা পড়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে এক ঝটকায় জাগিয়ে তুলল। ঐশীর মৃত্যুর পর গত সাত বছরে সে অসংখ্যবার চেষ্টা করেছে সত্যটা জানার। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছে, পুলিশের কাছে গেছে, হাসপাতালের রিপোর্ট ঘেঁটেছে, এমনকি ব্যক্তিগত গোয়েন্দাও নিয়োগ করেছিল। কিন্তু কোথাও কোনো উত্তর পায়নি। তাহলে... এই চিঠি কে পাঠাল? আর সে কীভাবে জানল, অর্ণব এখনো সেই সত্যের খোঁজ করছে?অর্ণব আবার কাগজটা উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগল। কাগজের এক কোণায় খুব হালকা একটা দাগ ছিল। আলোতে ধরতেই বোঝা গেল, সেটা কোনো সাধারণ দাগ নয়। যেন অর্ধেক মুছে যাওয়া একটি প্রতীক, একটি বৃত্ত। বৃত্তের মাঝখানে উল্টো দিকে তাকিয়ে থাকা একটি চোখ।.....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





