স্বপ্নের ঠিকানা ( পর্ব ৮ )
| হ্যালো বন্ধুরা, সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই ভালো আছেন। সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের ব্লগটি শুরু করছি। |
|---|
Image Created by OpenAI
আজকে আপনাদের সাথে 'স্বপ্নের ঠিকানা' গল্পের অষ্টম পর্ব শেয়ার করে নেবো। এরপর ঠিক তখনই রাহুল স্যার এসে দাঁড়ায়। ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলে- ভুল করেছো, তাই না? অর্ণব চুপ করে থাকে, কিছু বলে না আর। রাহুল স্যার হালকা হেসে বলে- ভালো। কারণ ভুল না করলে কোনো কিছু ভালো ভাবে শেখা যায় না। তিনি ধীরে ধীরে দেখিয়ে দিলেন যে, কিভাবে সেই ভুলটা ঠিক করা যায়। অর্ণব আবার কাজ শুরু করে এবং এবার তার হাত আর কাঁপে না। কারণ সে বুঝে গেছে, এখানে কেউ তাকে ছোট করতে আসেনি, বরং সবাই তাকে শেখাতে এসেছে। দিনটা শেষ হয়, অর্ণব তখন ক্লান্ত। কিন্তু তার মুখে একটা তৃপ্তি আছে। কারণ আজ সে শুধু ছবি আঁকেনি, সে নতুন কিছু শিখেছে।
এরপর রাহুল স্যার তাকে একটা ছোট্ট ঘর দেখালো এবং বললো- চাইলে তুমি এখানে থাকতে পারো। অর্ণবের চোখে জল চলে আসে, কারণ এটাই তার জীবনের প্রথম নিজের “জায়গা”। ছোট, সাধারণ ঠিকই, কিন্তু তার নিজের। রাতের খাবারের পর, রাহুল স্যার তাকে ডেকে বললো- আগামী সপ্তাহে একটা ছোট এক্সিবিশন আছে।আমরা চাই তুমি সেখানে তোমার একটা কাজ প্রদর্শন করো। অর্ণব হতভম্ব হয়ে যায় শুনে। আমি… আমি কি পারব? এইসব মনে মনে বলতে থাকে। রাহুল স্যার তখন দৃঢ়ভাবে বললো- তুমি পারবে, কারণ আমি তোমার মধ্যে সেই ক্ষমতা দেখেছি। ঘরে ফিরে অর্ণব চুপ করে বসে থাকে।একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে ভয়। একসাথে তার মনের মধ্যে যেনো উথাল-পাথাল বইতে থাকে।
এটা তার জীবনের প্রথম বড়ো সুযোগ, তাই যদি সে ব্যর্থ হয়? কিন্তু আবার মনে পড়ে যে, সে কেন এই পথে এসেছে। অর্ণব জানে যে, এবার শুধু চেষ্টা করলেই হবে না। এবার তাকে নিজের সেরাটা দিতে হবে। কারণ, এটা শুধু একটা এক্সিবিশন না। এটা তার স্বপ্নের প্রথম বড়ো পরীক্ষা, সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখে। এরপর ধীরে বলে- আমি পারব… আমাকে পারতেই হবে। এরপর সেই সকালটা অর্ণবের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সকাল ছিল। কারণ সেটা ওই এক্সিবিশনের দিন ছিল। গত এক সপ্তাহ সে ঠিকমতো ঘুমায়নি, দিন-রাত এক করে শুধু একটা ছবির পেছনে সময় দিয়েছে। কারণ সে জানে, এই একটা সুযোগই বদলে দিতে পারে তার সবকিছু।
এরপর স্টুডিওর ভেতরে আজ ব্যস্ততা তুঙ্গে। কারণ সবাই নিজের নিজের কাজ নিয়ে ছুটছে।কেউ ছবি সাজাচ্ছে, কেউ আলো ঠিক করছে, কেউ অতিথিদের তালিকা মিলিয়ে নিচ্ছে। অর্ণব এক কোণে দাঁড়িয়ে তার ছবিটার দিকে তাকিয়ে আছে, আর একটা টেনশন কাজ করতে থাকে তার মনের ভেতর। কারণ এই ছবিটা তার সবকিছু, একটা বড়ো ক্যানভাসে আঁকা- একটা ছেলে অন্ধকার রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, সামনে দূরে একটা আলো। আর সেই আলোটা ধীরে ধীরে একটা ঘরের আকার নিচ্ছে। ঘরটার দরজায় লেখা- Dream. সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও অর্ণবের ভেতরের ভয় কমছে না। সে মনে মনে ভাবে- যদি কেউ পছন্দ না করে? যদি আমি ব্যর্থ হই? তার হাত ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগে।....
শুভেচ্ছান্তে, @winkles
| 250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |





