"সিকিম ট্যুরে আমাদের শেষ গন্তব্য ছিলো, সিল্ক রুট হয়ে ঋষি খোলা"

in Incredible India5 hours ago
IMG_20260512_130118.jpg
"সিল্ক রুটের অসাধারণ দৃশ্য। মেঘ না থাকলে দৃশ্যটা আরও অসাধারণ লাগতো।"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।

আমার দিনটাও আজ বেশ ভালো কেটেছে। এই বছরের মধ্যে আজ দুপুরে‌ সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তাই সারাটা দিন আজ কিভাবে কেটেছে, সে কথা অন্য পোস্টে শেয়ার করবো।

কারণ আমি ভেবেই রেখেছিলাম আজকের দিনে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, ওল্ড বাবা মন্দির থেকে ঋষিখোলা পৌঁছানোর যাত্রাপথের গল্প।

সিকিম ট্যুরের মধ্যে এই ঋষিখোলই ছিলো আমাদের শেষ গন্তব্য। তবে শেষটাও যে এতো সুন্দর হবে, সেটা ঋষিখোলার হোমস্টেতে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত সত্যিই কল্পনা করিনি।

IMG_20260512_132217.jpg
"আর্মি ক্যাম্প"
IMG_20260512_132218.jpg
"আর্মি ক্যাম্পের আরেকটা অংশ"

সিকিম ভ্রমণের গত পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম, ওল্ড বাবা মন্দিরের থেকে আমাদের গাড়ি চলতে শুরু করেছিলো ঋষিখোলার উদ্দেশ্যে। কিছু দূর এগিয়েই আমরা ইন্ডিয়ান আর্মির ছোট্ট ক্যাম্প দেখতে পেয়েছিলাম তবে সেখানে আমাদের গাড়ি দাঁড় করানো হয়নি।

চারপাশটা তখনও মেঘে ঢেকে ছিলো। আসলে এরপরে আমাদের যে ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ানোর কথা ছিলো সেটি ছিলো "সিল্ক রুট"। সেখানকার দৃশ্যগুলো অসাধারণ, আমরা অনেক রিলিসেও সেটা দেখেছিলাম।তাই খুব ইচ্ছে ছিলো সেটা উপভোগ করার।

IMG_20260512_130123.jpg
"মেঘের কারনে সম্পূর্ণ ভাবে সিল্ক রুট দেখা সম্ভব হয়নি।"
IMG_20260512_130127.jpg
"তবুও যতটা দেখতে পেয়েছিলাম, তা অসাধারণ ছিলো।"
IMG_20260512_130153.jpg
"এই পাশের অংশটা মেঘের কারনে ভালোভাবে দেখাই যায়নি।"

তবে ভাগ্য বোধহয় সবসময় সাথ দেয় না। তাই মেঘের কারণে আমরা সিল্ক রুটের আসল ভিউ উপভোগ করার সুযোগ পাইনি। তবে একেবারেও নিরাশ হইনি জানেন। কারণ একটা জায়গায় এসে আমাদের ড্রাইভার দাদা গাড়িটা দাঁড় করিয়েছিলেন। তখন সামান্য মেঘ সরেছিলো, যে কারণে কিছুটা হলেও আমরা সিল্ক রুট দেখতে পেয়েছিলাম।

সময় নষ্ট না করে কয়েকটা ছবি তুলেছিলাম। আশাকরছি আপনারা এই ছবিগুলো দেখে কিছুটা হলেও সিল্ক রুট দেখতে পাবেন।

IMG_20260512_130752.jpg
"এটা সিল্ক রুটের মেইন ভিউ পয়েন্ট। যেখান থেকে নিচের দিকে তাকালে শুধুই মেঘ দেখা যাচ্ছিলো। তবে আবহাওয়া মেঘলা না থাকলে এখানকার ভিউ সবথেকে সুন্দর হয়। "
IMG_20260512_132817.jpg
"গাড়ি থেকে তোলা ছবি। আশাকরি ছবিটা দেখে বুঝতে পারছেন সামনে কতখানি মেঘলা আবহাওয়া।"

তবে সিল্ক রুটের যে মেইন ভিউ পয়েন্ট ছিলো, সেখানে আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল ঠিকই, তবে চারপাশটা কেমন মেঘে ঢাকা তা আশাকরি আপনারা উপরের ছবিতে দেখেই বুঝতে পারছেন। তাই সেখানে দাঁড়িয়ে সত্যিই তেমন লাভ হতো না। তাই আমাদের গাড়ি আবার চলতে শুরু করলো, সামনের কুয়াশা ভেদ করে।

IMG_20260512_134831.jpg
"বৃষ্টি শুরু হওয়ার মুহুর্ত"
IMG_20260512_141207.jpg
"এই পুলিশ স্টেশনে কাগজ জমা দিতে হয়েছিলো।"

মুহূর্তের মধ্যে আবার বৃষ্টিও পড়তে শুরু করলো। গাড়ির মধ্যে বসে বৃষ্টির উপভোগ করতে খুব একটা মন্দ লাগছিলো না। কিছুদূর এগোনোর পর একটা পুলিশ চেকপোস্ট চোখে পড়লো। যেখানে আমাদের গাড়ি থামিয়ে, আমাদের ড্রাইভার দাদা নেমে একটা পেপার জমা দিলেন। এটা নাকি এখানকার নিয়ম। একটা গাড়িতে যতজন পর্যটক থাকবে তাদের ডিটেলস সব চেকপোষ্টাই জমা করতে হয়।

IMG_20260512_143332.jpg
"গাড়িতে বসেই উপভোগ করেছিলাম সিল্ক রুট ওখোলা ওয়াটার ফলস। "

সেখান থেকে আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে একটা ওয়াটার ফলস চোখে পড়লো। যেখানে মানুষের ভিড়ও ছিলো অনেক। ওয়াটার ফলস এর নাম ছিল "সিল্ক রুট ওখোলা"

আমাদের ড্রাইভার দাদা বলেছিলেন যদি আমরা চাই সেখান থেকে একটু ঘুরে আসতে পারি। তবে এর থেকেও অনেক ভালো ওয়াটার ফলস এর পূর্বে দেখেছি বলে, আমরা আর দাঁড়াইনি। আসলে সকাল থেকে এতো বেশি জার্নি করেছিলাম যে, শরীরও আর সাথ দিচ্ছিলো না।

IMG_20260512_143714.jpg
"নীচের দিকে নামার রাস্তা"
IMG_20260512_143840.jpg
"সবুজের কাছাকাছি পৌঁছে বেশ ভালো লাগছিলো।"

এর কিছুক্ষণ পরেই আমরা‌ অনেকটাই নিচে পৌঁছে গিয়েছিলাম যেখানে চারপাশে সবুজ পাহাড় চোখে পড়ছিলো। চারপাশে সবুজে ঘেরা পাহাড়ের দৃশ্যগুলো আরও একবার উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম।

IMG_20260512_144212.jpg
"ঋষি খোলায় প্রবেশের আগে এই পুলিশ চেকপোস্টে কাগজ জমা দিতে হয়েছিলো।"
IMG_20260512_144226.jpg
"আমাদের ড্রাইভার দাদাই মূলত দায়িত্ব নিয়ে সকল কাজ করেছিলেন। "

ঋষি খোলা ঢোকার আগেই লিংটাম নামক চেক পোস্টে আমাদের সকলের ডিটেলস দিয়ে‌ আরও একবার পেপার জমা করতে হয়েছিলো।

এই সমস্ত কাজগুলো শুরুর দিন থেকে আমাদের ড্রাইভার দাদাই দায়িত্ব করেছিলেন। যাইহোক এরপর আমরা একই রাস্তা ধরে, ধীরে ধীরে ঋষি খোলার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। চারপাশের সুন্দর সবুজ প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে করতে আমাদের গাড়ি রাস্তার পাশেরই একটা ছোট্ট দোকানের সামনে এসে দাঁড়ালো।

IMG_20260512_143856.jpg
"ঋষিখোলায় চারিদিকে সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জায়গায় শেষ দিন কাটিয়েছিলাম আমরা।"

প্রথমে ভাবছিলাম বোধহয় ড্রাইভার দাদার দোকানে‌ কোনো দরকার আছে বলে, আমাদের গাড়িটা দাঁড় করিয়েছে। তবে পরে বুঝলাম এটাই আমাদের শেষ গন্তব্য। তবে চারপাশে কোনো হোটেল বা হোমস্টে দেখতে পারছিলাম না, যেখানে আমরা রাতে থাকতে পারবো। বেশ অবাক হয়েই ড্রাইভার দাদাকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে আমরা কোথায় থাকবো?

ড্রাইভার দাদা‌ হেসে বললেন টেনশন নেওয়ার কোনো কারণ নেই। সবটাই অ্যারেঞ্জ করা আছে। দোকান থেকে তখনই দুটো দাদা এলেন এবং আমাদের লাগেজ গুনলেন। কারণ এই লাগেজ গুলো ওনরাই আমাদের রুম পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন। তবে তার জন্য আমাদেরকে টাকা দিতে হবে।

প্রথমে বুঝতে পারছিলাম না কেন টাকা দিতে হবে। কারণ যতো জায়গাতে আমরা ঘুরলাম, কোথাও লাগেজ ক্যারি করার জন্য আলাদা টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে বুঝতে পারিনি যে এইখানকার অভিজ্ঞতা এতোটা আলাদা হবে।

যাইহোক দাদারা কেন টাকা নিয়েছিলেন এবং আমরা কোথায় ছিলাম? দিনটা কিভাবে কাটিয়েছিলাম? আর পরদিন বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা করার অনুভূতি কেমন ছিলো? সমস্তটাই আপনাদের সাথে পরের পোস্টগুলোতে শেয়ার করবো।

আজকের পোস্টে শুধুমাত্র ঋষি খোলায় উদ্দেশ্য যাত্রা পথের কিছু মুহূর্ত শেয়ার করলাম। কেমন লাগলো আপনাদের এই পোস্ট পড়ে, মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।

সকলে খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।