একজন মানুষ কেন প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়? হারিয়ে যায় তার চিন্তার স্বাধীনতা
মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো প্রশ্ন করার ক্ষমতা। একটি শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, তখন তার প্রথম কাজই হয় প্রশ্ন করা এটা কী?, কেন হয়?, কীভাবে হয়?। এই প্রশ্ন করার অভ্যাস থেকেই মানুষের জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং সভ্যতার জন্ম হয়েছে।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেয়। তারা আর জানতে চায় না, নতুন কিছু নিয়ে ভাবতে চায় না। ধীরে ধীরে তারা অন্যের দেওয়া উত্তরকেই নিজের সত্য হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করে।
কেন এমন হয়?
ভয় আমাদের প্রশ্নহীন করে তোলে
অনেক মানুষ প্রশ্ন করতে ভয় পায়। কারণ প্রশ্ন করলে হয়তো তাকে ভুল প্রমাণিত হতে হবে, হয়তো সমাজ তাকে গ্রহণ করবে না। তাই অনেকেই নিরাপদ পথ বেছে নেয় চুপ থাকা।
কিন্তু যে মানুষ ভুল হওয়ার ভয় কাটিয়ে প্রশ্ন করতে পারে, সে-ই নতুন সত্য আবিষ্কার করতে পারে।
অভ্যাস আমাদের চিন্তার দরজা বন্ধ করে দেয়
অনেক সময় আমরা ছোটবেলা থেকে কিছু বিশ্বাস নিয়ে বড় হই। পরিবার, সমাজ বা সংস্কৃতি আমাদের কিছু ধারণা শেখায়। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও, যখন আমরা কোনো বিষয় যাচাই না করেই শুধু গ্রহণ করি, তখন আমাদের চিন্তার স্বাধীনতা ধীরে ধীরে কমে যায়।
একজন স্বাধীন চিন্তার মানুষ কখনো শুধু বলে না
সবাই এটাই বিশ্বাস করে, তাই এটি সত্য।
সে জিজ্ঞেস করে
কেন এটি সত্য?
এর প্রমাণ কী?
এর অন্য কোনো দৃষ্টিভঙ্গি আছে কি?
সহজ উত্তর আমাদের চিন্তা কমিয়ে দেয়
বর্তমান যুগে তথ্য পাওয়া খুব সহজ। কয়েক সেকেন্ডেই আমরা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাই। কিন্তু উত্তর পাওয়া আর সত্যিকার অর্থে বোঝা এক জিনিস নয়।
যে মানুষ সবসময় প্রস্তুত উত্তর গ্রহণ করে, সে ধীরে ধীরে নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা হারাতে পারে।
প্রশ্ন করা মানে বিদ্রোহ নয়
অনেকে মনে করে প্রশ্ন করা মানে বিরোধিতা করা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রশ্ন হলো শেখার প্রথম ধাপ।
দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন, অপরীক্ষিত জীবন বেঁচে থাকার যোগ্য নয়।
কারণ যে মানুষ নিজের বিশ্বাস, চিন্তা এবং সিদ্ধান্তকে পরীক্ষা করে না, সে হয়তো নিজের জীবন নয়, বরং অন্যের তৈরি নিয়ম অনুযায়ী জীবনযাপন করে।
শেষ কথা
প্রশ্ন হারিয়ে গেলে মানুষের কৌতূহল হারিয়ে যায়। কৌতূহল হারিয়ে গেলে শেখার ইচ্ছা কমে যায়। আর শেখার ইচ্ছা হারিয়ে গেলে মানুষ নিজের সম্ভাবনার অনেকটাই হারিয়ে ফেলে।
তাই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি হলো প্রশ্ন করতে শেখা।
কারণ প্রশ্নই মানুষকে অন্ধ অনুসরণ থেকে মুক্ত করে এবং তাকে নিজের চিন্তার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়।
আপনি কি মনে করেন, বর্তমান সমাজে মানুষ আগের চেয়ে বেশি প্রশ্ন করে, নাকি কম?
