ধোঁয়ার ঘৃণা
একদিন এক ছেলে, অর্থাৎ গল্পের নায়ক, বাইরে বের হয়ে হাঁটছিল। হঠাৎ সে দেখল, একজন লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। লোকটির হাতে একটি জ্বলন্ত সিগারেট।
এখানে বলে রাখা ভালো, গল্পের নায়ক জীবনে কখনো সিগারেট হাতে ধরেনি। এমনকি যারা সিগারেট খায়, তাদেরও সে খুব ঘৃণা করে।
এবার আসল ঘটনায় আসা যাক। লোকটি যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সিগারেটের ধোঁয়া ছেলেটার সহ্য হচ্ছিল না। তার এতটাই রাগ হচ্ছিল যে, মনে হচ্ছিল লোকটার মাথা ফাটিয়ে দেয়।
শুধু তাই নয়, গল্পের নায়ক যদি কোনো যানবাহনে ওঠার সময় দেখে যে চালকের হাতে সিগারেট, তাহলে সে সেই যানবাহনে ওঠেই না। এমনকি তার যেসব বন্ধু সিগারেট খায়, তাদের সঙ্গেও সে দূরত্ব বজায় রাখে। তাদের প্রতিও তার প্রবল ঘৃণা। সে মনে করে, যে মানুষ নিজের ক্ষতির কথা জেনেও এমন অভ্যাস ছাড়তে পারে না, তার সঙ্গে চলাফেরা করাও ঠিক নয়।
সে মনে মনে ভাবতে থাকে, "রাস্তার মানুষদের কি এতটুকুও লজ্জা নেই যে তারা এত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়? তাদের কি কখনো মনে হয় না, এর ধোঁয়ায় যারা ধূমপান করে না, তাদের কতটা অসুবিধা হয়? তারা কি একবারও ভাবে না যে, তাদের এই অভ্যাস সাধারণ মানুষের কতটা ক্ষতি করছে? তারা কি এতই অবুঝ? তাদের কি বাবা-মা এসব বিষয়ে কোনো শিক্ষা দেননি?"
এ রকম আরও অসংখ্য প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খেতে থাকে। কখনো কখনো সে রাগে তাদের জন্য বদদোয়াও করে। করবে না-ই বা কেন? তার মনে হয়, সমাজ তো আর আগের মতো ভালো নেই।