"লাচুং থেকে গ্যাংটক এ ফেরার গল্প"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটা খুব ভালো কেটেছে।
সিকিম ডায়েরির গত পর্বে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম লাচুং এ আমাদের হোমস্টেতে কাটানো শেষ সকালের গল্প। সেখান থেকে আপেল বাগান পরিদর্শন করে, আমরা রওনা হয়েছিলাম গ্যাংটকের পথে। যারা এই নর্থ সিকিমের জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন করার প্ল্যান করেন, প্রত্যেকের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।
আপনাদেরকে আগের দিন এসে লাচুং বা তার কাছাকাছি কোনো হোমস্টে বা হোটেলে একটা রাত থেকে, পরদিন সকালে জিরো পয়েন্ট, গুরুদংমার লেক এই সকল জায়গা পরিদর্শন করতে হবে। তারপর সেই দিনটাও লাচুং এ কাটিয়ে পরদিন সকালে আপনাদেরকে গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
আপনি যদি চান সোজা গ্যাংটক থেকে এসে আপনি জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন করবেন, সেটা কিন্তু সম্ভব হবে না। বিশেষ করে যারা কোনো ট্যুর এজেন্সির সঙ্গে যাবেন, তাদের ক্ষেত্রে তো এই নিয়মটা পালন করতেই হবে। এ সম্পূর্ণ বিষয়টা আমি আমাদের ড্রাইভার দাদার কাছ থেকেই জেনেছি। তাই ভাবলাম এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকেও জানিয়ে রাখি।
মূলত এই কারণেই আমাদেরকে দুদিন লাচুং এর হোমস্টেতে থাকতে হয়েছিলো। তবে এখানে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এতো সুন্দর ছিলো যে, আরও কয়েকদিন থাকলেও বোধহয় বোরিং লাগতো না। যাইহোক পরদিন সকালে আমাদের ড্রাইভার দাদা সময়মতো এলেন, লাগেজ গাড়িতে তোলা হয়ে গেলে আমরা রওনা হলাম গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
গ্যাংটক থেকে যখন আমরা যাচ্ছিলাম তখনকার পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছিলাম রাস্তার অবস্থার কথা। তাই আলাদাভাবে সেটা আর বিস্তারিত এই পোস্টে শেয়ার করছি না। তবে গ্যাংটক এ ফেরার পথে একটা জায়গাতে আমাদের গাড়ি কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়েছিলো, কারণ সেখানে ছোট্ট একটা ওয়াটার ফলস্ ছিলো।
আমাদের ড্রাইভার দাদাই বললেন ছোট্ট হলেও এই ওয়াটার ফলসটা দেখলে আমাদের নাকি ভালো লাগবে, তাই তার কথায় ভরসা করেই আমরা এই ছোট্ট ওয়াটার ফলসটা দেখতে নামলাম।
|
|---|
যাওয়ার পথে আমরা যদিও অনেক বড় একটা ওয়াটার ফলস্ দেখেছিলাম। তবে সেখানে প্রচন্ড ঠান্ডা ছিলো বলে খুব বেশিক্ষণ আমরা দাঁড়াতে পারিনি, সেই গল্প আগেই আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করেছিলাম। তবে এদিন ফেরার সময় বেশ রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ ছিলো। তাই বেশ কিছুক্ষণ আমরা সকলেই এই ওয়াটার ফলস্ এ সময় কাটিয়েছিলাম।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
ওয়াটার ফলস্ টা অনেক বড় না হলেও এর একটা বিশেষত্ব ছিলো। যেখানে ওয়াটার ফলস এর জল জমা হচ্ছিলো, সেই জায়গাটা অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো দেখতে। সেখানকার জল একেবারেই স্বচ্ছ। আপনারা হয়তো ছবি দেখে কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারবেন। জলের নিচে থাকা পাথর, পাথরে জমে থাকা শ্যাওলা গুলো ছবিতেই একেবারে সুস্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে।
![]()
|
|---|
পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার জলের মতনই জমে থাকা জলের স্বচ্ছতা এই ঝরনাটিকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছিলো। আমরা যখন সেখানে সময় কাটাচ্ছিলাম, তখন অপরপ্রান্তে দুজন মেয়েকে বসে থাকতে দেখেছিলাম। ওরা স্থানীয় কি না বুঝতে পারিনি, তবে সেখানে ওরা আমাদের আগেই গিয়েছে এবং সেখানে বসে নিজেদের মতো করেই সময় কাটাচ্ছিলো।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
এই ওয়াটার ফলস্ টা দেখার জন্য আমাদের একটা ব্রীজ থেকে একটু নিচে নামতে হয়েছিলো। তবে ব্রিজের উপর থেকেও আশেপাশের পরিবেশটা অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো দেখতে। তাই সেখানে দাঁড়িয়ে কয়েকটি ছবি তুলে, তারপর আমরা আবার গাড়িতে উঠে রওনা দিয়েছিলাম আমাদের হোটেলের উদ্দেশ্যে।
![]()
|
|---|
আপনাদের হয়তো খেয়াল থাকবে প্রথম যেদিন গ্যাংটক এ এসেছিলাম, সেদিন আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম এইদিনও আমরা কিন্তু একই হোটেলের একই রুমে গিয়ে উঠেছিলাম। এটা হয়তো আমাদের যিনি ট্যুর অর্গানাইজার ছিলেন, তিনি আগে থেকে বলে দিয়েছিলেন। তবে আমরা সেখানে গিয়ে নামার সাথে সাথেই হোটেলের দাদাগুলো আমাদের লাগেজ নিয়ে সেই আগের রুমটাতেই রেখেছিলো।
![]()
|
|---|
ফলতো আমাদের কাছেও যেন মনে হয়েছিল আবার আমরা নিজের বাড়িতেই ফিরে এসেছি। যেখান থেকে যাত্রা করেছিলাম জিরো পয়েন্ট দেখার জন্য, আবার সেখানেই ফিরে এসে কেমন একটা বাড়ি ফেরার আনন্দ অনুভব করেছিলাম।
সেখানে লাগেজ রেখেই জালনা খুলে আগে একবার বাইরের প্রকৃতি পরিদর্শন করে নিলাম। এরপর সোজা চলে গিয়েছিলাম লাঞ্চ করতে। তবে ফোনে একেবারেই চার্জ ছিলো না বলে, ফোনটা চার্জে বসিয়ে লাঞ্চ করতে গিয়েছিলাম। তাই লাঞ্চে সেদিন কি কি খেয়েছিলাম তার ছবি আর আলাদা করে তোলা হয়নি।
![]()
|
|---|
এরপর রুমে ফিরে সকলেই বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলাম। সন্ধ্যার দিকে সকলের জন্য চা এবং পকোড়া এসেছিলো রুমেই। আমি চা খাইনি, তবে পকোড়া খেয়েছিলাম। সবার খাওয়া প্রায় শেষ তখন হঠাৎ মনে পড়তেই একটা ছবি তুলেছিলাম আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। সন্ধ্যার পর সকলে মিলে ডিসিশন নিয়েছিল আরও একবার গ্যাংটকের মল রোড ঘুরে দেখবে।
![]()
|
|---|
খুব বেশি ইচ্ছা না থাকলেও একা ঘরে বসে বোর হওয়ার থেকে সকলের সাথে আরও একবার পরিদর্শন করে আসাই ভালো। এটা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আরো একবার গ্যাংটকের বিখ্যাত সেই মলরোডে যাওয়ার। যেখানে সেদিন টুকটাক কিছু জিনিস শপিংও করেছিলাম বাড়ির সকলের জন্য। তারপর রাতে সকলেই রুমে ফিরে ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
পরদিন আমাদের গন্তব্য ছিল নাথুলা পাস। সেই দিনটি কিভাবে কাটিয়েছিলাম সে গল্প না হয় পরবর্তী পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আপাতত গ্যাংটকের ফেরার এবং সেখানে কাটানো রাতের গল্প এখানেই শেষ করছি। আমার এই সিকিম ডায়েরির বিভিন্ন পর্ব পড়তে আপনাদের কেমন লাগছে, তা অবশ্যই একবার মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। শুভরাত্রি।
















Congratulations! This post has been voted through steemcurator09. We support quality posts, good comments anywhere and any tags.