"কুপুপ লেক বা এলিফ্যান্ট লেক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা ও ওল্ড বাবা মন্দিরের ইতিহাস"
![]()
|
|---|
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি খুব ভালো কেটেছে।
দুদিন আগের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম নিউ বাবা মন্দির ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা। সেখান থেকে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য ছিলো ওল্ড বাবা মন্দির।
তবে যাত্রাপথের মাঝেই পড়েছিলো ছোট্ট একটা লেক, যার নাম "কুপুপ লেক"। অনেকে আবার এটাকে "এলিফ্যান্ট লেক" নামে চিনে থাকবেন। এমন নামকরনের কারণ হলো, এটা দেখতে অনেকটা হাতির চেহারার মতো। যার লেজ এবং শুঁড়ের অংশটা একেবারেই স্পষ্ট বোঝা যায়। এই লেকটি পুরনো সিল্ক রুটের কাছে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৩,০৬৬ ফুট উঁচুতে অবস্থিত।
![]()
|
|---|
![]()
|
|---|
নিউ বাবা মন্দির থেকে এই লেকে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না। গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। রাস্তার পাশেই আমাদের ড্রাইভার দাদা গাড়িটিকে দাঁড় করিয়েছিলেন এবং আমরা গিয়ে দশ মিনিটের মতো সময় সেখানে কাটিয়েছিলাম।
সকলে কয়েকটা ছবি তুলেছি, আর লেকটাকে কিছুক্ষণ উপভোগ করে আবার গাড়িতে এসে বসেছি। সেই মুহূর্তে প্রচুর রোদ্দুর থাকলেও ঠান্ডাও ছিলো বেশ ভালো কাটিয়েছিলাম। সেদিনের আকাশটাও অপূর্ব সুন্দর লাগছিলো। আশা করি ছবিগুলো দেখলেই আপনার সেটা বুঝতে পারবেন।
তবে এই লেক থেকে দেখার জন্য সবথেকে উপযুক্ত সময় মে থেকে জুন মাস এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস। শীতকালে এখানে প্রচুর বরফ পড়ার কারণে এই রাস্তাটা প্রায় সময়ই বন্ধ থাকে। তাই লেকটাকেও ভালোভাবে উপভোগ করা যায় না।
![]()
|
|---|
একই সময় ওল্ড বাবা মন্দিরেও প্রচুর বরফ পরে বলে সেটিও শীতকালীন সময়ে বন্ধ থাকে। এই কারণে যখন ওল্ড বাবা মন্দিরে যাওয়ার পথ খোলা থাকে, সেই সময়েই এই লেকটাকে সবথেকে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।
সেখানে দাঁড়িয়ে তোলা কয়েকটি ছবি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আশাকরি আপনারাও এর গঠনটা দেখে বুঝতে পারবেন কেন একে "এলিফ্যান্ট লেক" বলা হয়।
![]()
|
|---|
যাইহোক সেখান থেকে আমরা গিয়েছিলাম ওল্ড বাবা মন্দিরে। এই মন্দিরের পিছনের একটা ইতিহাস রয়েছে। তাই ভাবলাম সেখানকার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার আগে আজকের পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের সাথে মন্দির তৈরীর ইতিহাসটা শেয়ার করি।
এই মন্দির তৈরীর ইতিহাস হয়তো আপনারা অনেকেই জানেন। ক্যাপ্টেন বাবা হরভজন সিং ছিলেন একজন ভারতীয় সেনা জওয়ান। যিনি ১৯৪৬ সালের ৩০ আগস্ট পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৫ সালে পাঞ্জাব রেজিমেন্টে নিজের নাম নথিভুক্ত করেন।
১৯৬৮ সালের ৪ অক্টোবর সিকিমে ডিউটিরত অবস্থায় দুর্ভাগ্যবশত পা পিছলে খাদে পড়ে তিনি মারা যান। তিন দিন পর্যন্ত তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনদিন পর তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে মৃত্যুর পরেও সিকিমের নাথুলা পাস সীমান্তে, তিনি দেশের হয়ে পাহারা দিচ্ছেন বলেই বিশ্বাস করা হয়।
বহুবার সহকর্মীদের স্বপ্নে এসে তিনি শত্রুর গোপন খবরের ইঙ্গিত দিতেন। আর বাস্তবে তা অনুসরণ করে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলেও শোনা যায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাঁকে আজও আমাদের দেশের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে সম্মান জানায়। ভারতীয় সেনাবাহিনী তাঁকে এখনও মৃত ঘোষণা করেনি। শোনা যায় তিনি নিয়মিত পদোন্নতি পান।
![]()
|
|---|
সিকিমের নাথুলা পাসের কাছে তাঁর নামে একটি মন্দির তৈরি করা হয়েছে। যার নাম "ওল্ড বাবা মন্দির"। আজও তার উপস্থিতি সেখানে আছেন বলেই সকলে বিশ্বাস করেন। আর এই কারণেই দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা আজও তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এই মন্দির পরিদর্শন করে।
আমরা যখন ঘুরতে গিয়েছিলাম তখন এই মন্দির খোলা ছিলো। আর সেখানে পৌঁছে মনে হচ্ছিলো ভাগ্যিস আমরা এই সময় সিকিম ঘোরার প্ল্যান করেছিলাম। না হলে হয়তো এই জায়গাটা পরিদর্শন করার সুযোগ হতো না। এই সকল জায়গায় ঘোরার অনুভূতি আসলে কতখানি সুন্দর, তা বোধহয় ব্যক্তিগতভাবে সেখানে না গেলে অনুভব করা যায় না।
তাই এই ওল্ড বাবা মন্দিরে এসে কেমন অনুভব করেছিলাম এবং সেখানকার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো, সেটা আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে আরও ভালোভাবে শেয়ার করবো। আজকের পোস্ট আপাতত এখানেই শেষ করছি।
আপনাদের সকলের ওল্ড বাবা মন্দিরের এই যাত্রাপথের গল্প ও মন্দিরের পিছনের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে কেমন লাগলো, সেটা অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন।
সকলের সুস্থতা কামনা করে আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি। ভালো থাকবেন।





